৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ৮ শতাংশের বেশিতে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো

    করোনা থেকে ব্যাংকগুলোকে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিয়ে বেশি সুদে সরকারি বিল বন্ড কিনছে ব্যাংকগুলো। বতর্মান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো এমন ঋণ ব্যবস্থায় বাধ্য হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালেদ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নীতি বহির্ভূত হওয়ায় রেপো সুবিধা নিয়ে সরকারি বিল-বন্ড কেনার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    চলতি মাসে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণের জোগান দিতে ২ জুন নিলাম ডাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১১১টি বিডের মধ্যে ১৭টির মাধ্যমে ৯৭৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। একই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে রেপোতে ৮৫৮ কোটি টাকা ধার নিয়েছে ব্যাংকগুলো। আর রেপো সুবিধায় প্রায় ৫ শতাংশে ঋণ নিয়ে ৮ শতাংশের বেশি সুদে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। নিরাপদ খাত হওয়ায় সরকারকে ঋণ দিচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এখন ব্যাংকের যে অবস্থা প্রাইভেট সেক্টরে সুযোগ নেই, আসছে না তারা। কারণ এর মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ, কে ঋণ নিবে? ফলে এখানে প্রাইভেট চ্যানেলে দেয়ার সুযোগ নেই। যেটা ট্রেজারী বিলে সুযোগ হয়তো বেশি হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা টেম্পোরারি সিচুয়েশন। এরপর যখন পরিস্থিতি ভাল হবে তখন প্রাইভেট সেক্টরে দেবে, কারণ ব্যাংকগুলোর অ্যাটিচ্যুড প্রাইভেট সেক্টরে দেয়ার, এখন সীমাবদ্ধতার জন্য দিচ্ছে না।

    ব্যাংকগুলো রেপো ঋণ সুবিধা নেয় কৃষি ও এসএমই খাতে বিনিয়োগের জন্য। কিন্তু বর্তমানে বেশি সুদে সেই অর্থ দিয়ে ট্রেজারী বিল-বন্ড কেনা ব্যাংক নীতিমালা পরিপন্থী বলছে

    বাংলাদেশ ব্যাংক মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক বছরের জন্য রেপোর যে টাকা নেবে সেটা কেবলমাত্র কৃষিক্ষেত্রে এবং এসএমই ক্ষেত্রে লোন দিতে হবে। অন্য কোন পারপাসে বন্ড কেনার ক্ষেত্রে কোন অনুমতি নাই । যদি এটা প্রমানিত হয় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই টাকা নিয়ে যদি সে সরকারি বন্ড কিনে সেটাতো ওই বিধান অনুযায়ি হবে না। সব রেপোর টাকাটাই ওই পারপাস করতে হবে।

    বর্তমান করোনা সংকটে আমানত কমেছে ব্যাংকগুলোর। এতে ব্যাংকগুলোকে কিছুটা সুরক্ষা দিতেই রেপো বা নীতি সুদহার ৬ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।