৩০ জেলায় বন্যা: বিপদে ৮১ লাখ শিক্ষার্থী

করোনার আঘাতে ঘরবন্দি শিক্ষার্থীদের বিপদে ফেলেছে বন্যা ও নদী ভাঙনের পানি। পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা থেকে শুরু করে যমুনা অববাহিকায় বন্যার পানি ও ভাঙনে মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে দেশের ৩০ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, পেনসিল, কলমও ভেসে গেছে। এর ফলে প্রায় ৮১ লাখ শিক্ষার্থীর পড়ালেখা হুমকিতে পড়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এমনিতেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখন শিক্ষা অবকাঠামো ও উপকরণও হুমকির মুখে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো যৌথভাবে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এতে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯০২টি বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮১ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। আর বই, খাতা, কলম, পেনসিলসহ শিক্ষা উপকরণ ভেসে গেছে ১০ লাখ শিক্ষার্থীর।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে রংপুর বিভাগে, ৭৬২টি। এরপর সিলেট বিভাগে ৬৩৫টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, করোনার কারণে গত মার্চ থেকে বন্ধ থাকা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খুব একটা হয়নি। বন্যার সময়ে ভবনগুলো রক্ষার জন্য বরাদ্দও ছিল সীমিত। আবার শিক্ষার্থীদেরকেও এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হয়নি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বন্যাকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন। বন্যায় এ পর্যন্ত ৩১টি জেলায় ৪৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের প্রধান দুই অববাহিকা ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মায় বন্যার পানি নামতে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত লেগে যাবে। আগামী দু–এক দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার উজানে বৃষ্টি বেড়ে আরেক দফা বন্যার ঢল আসতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসহ বিভিন্নভাবে শিক্ষাসহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থীর শিক্ষা উপকরণ ভেসে গেছে বা নষ্ট হয়েছে, তাদের সহায়তা দিতে হবে। যাতে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে তাদের উপবৃত্তির টাকা বাড়িয়ে দেওয়া যায় কি না, সেটি ভাবতে হবে। এমনকি উপবৃত্তির টাকা অগ্রিম দেওয়া যায় কি না, সেটিও ভাবতে হবে।

বন্যার পানি নেমে গেলে দ্রুত মেরামতের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম–আল–হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুটি বড় স্কুল ভবন পুরোপুরি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এসব ভবনকে দ্রুত কীভাবে মেরামত ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।