১৪ মাস পর ফল প্রকাশ, ১ বছর মেয়াদী মাস্টার্স করতে লাগল আড়াই বছর

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে স্নাতকোত্তরের ফাইনাল পরীক্ষার ফল পেল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ব্যাচটির পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব অবহেলা, উদাসীনতা এবং খামখেয়ালিপনার কারণে পরীক্ষার প্রায় ১৪ মাস পর সোমবার (১৭ আগস্ট) তাদের ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলে এক বছর মেয়াদী (দুই সেমিস্টার) এ প্রোগ্রামটি শেষ হতে সময় প্রায় আড়াই বছর লাগল।

এর আগে গত ১২ জুলাই ‘এক বছরেও মেলেনি স্নাতকোত্তরের ফল, পরীক্ষা কমিটির হেয়ালিপনা’ শিরোনামে পরীক্ষা কমিটির অবহেলা নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভাগটিকে ১৫ দিনের মধ্যে ফলাফল জমা দিতে বললে ২৬ জুলাই তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেয়। তবে ফলাফলে কিছু ভুল থাকায় এবং ঈদুল আযহার ছুটির কারণে আরও প্রায় ২০ দিন বিলম্ব হয়।

জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ৩৬ জন শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল স্নাতকোত্তর ২য় সেমিস্টারে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ৭ম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীরা। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে একই বছরের জুন মাসে ভাইভার মাধ্যমে সকল একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হয় তাদের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে চূড়ান্ত পরীক্ষার ১০ সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও বিভাগের পরীক্ষা কমিটির অবহেলার কারণে এক বছরেরও বেশি সময় পর ফলাফল দেয়া হয়।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার পদ্ধতিতে এক বছর মেয়াদী এ প্রোগ্রামটির মেয়াদ এক বছর। এছাড়া দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা, খাতা দেখা, ফল প্রস্তুত করতে আর দুই-থেকে আড়াই মাস লাগার কথা। কিন্তু কুবির ইংরেজি বিভাগের সপ্তম ব্যাচের তার দ্বিগুণ সময় লেগেছে। ফলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে প্রায় তিন বছরের সেশনজটে পড়ে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, ঈদের বন্ধের একদিন আগে বিভাগ থেকে ফলাফল জমা দেয়া হয়। কিন্তু ফলাফলে কিছু ভূল থাকায় আমরা ২৭ জুলাই সংশোধন করে দেয়ার জন্য বিভাগের পরীক্ষা কমিটিকে বলি। তারা সংশোধন করে দেয়ার একদিন পরই আমরা রেজাল্ট প্রকাশ করি।

কেন বিলম্ব হলো, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তো আন্তরিকতার অভাব ছিলো না। বিভাগ থেকে রেজাল্ট পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা প্রকাশ করে দিয়েছি।

ব্যাচটির পরীক্ষা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারকে ফোনে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে আগ্রহী নন বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বনানী বিশ্বাস বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে জানানোর পর আমি বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা কমিটিকে দ্রুত রেজাল্ট দিতে বলি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে।

ফল প্রকাশে বিলশ্ব হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অন্য ব্যাচগুলোর তো রেজাল্ট দিয়েছি। একটা ব্যাচের ফলাফল দেয়া পরীক্ষা কমিটির কাজ। কিন্তু কেন বিলম্ব হলো তারাই বলতে পারবে।

কুবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ঐ ব্যাচের রেজাল্ট দেয়া হয়েছে। আশা করছি এ ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।