হল খুলতে প্রস্তুত খুবি, থাকছে না গণরুম

আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে। এদিন সকাল ৯টা থেকেই মাস্টার্স ও স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবেন। হল খুলতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পূর্বের মত হলে গণরুম বহাল থাকছে না। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার জন্য নীতিমালা তৈরী করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা হলে উঠবে এবং যেসব নির্দেশনা দেওয়া হবে সেগুলো আবাসিক শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে।

জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ ও চলাফেরা করতে পারে সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রত্যেক হলে বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। দীর্ঘদিনের ধুলোয় মলিন ডায়নিং, ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া, রিডিং রুম ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। সব হলে টয়লেট ও বাথরুমগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট কাউন্সিল কমিটির সভাপতি সভাপতি ও খানবাহাদুর আহছান উল্লাহ হলের প্রভোস্ট (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ইকবাল আহমেদ বলেন, আপাতত করোনাকালীন সময়ে নতুন করে আর গণরুমে সিট বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পূর্বে যেসব শিক্ষার্থীরা হলের গণরুমে থাকতো তাদেরকে ধীরে ধীরে অন্য ফাকা রুমে সিটের ব্যবস্থা করা হবে।বর্তমানে গনরুমে থাকা শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সকল শিক্ষার্থীরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করে সেজন্য একটি নীতিমালা করা হয়েছে। নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটা করে কপি দেওয়া হবে। যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারে। সব হলে শিক্ষার্থী উঠতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ডাইনিং রুম নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা যাতে নিশ্চিত থাকে সে-ধরনের সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ডাইনিং,ক্যান্টিনের সকল কর্মচারীদের ও টিকার ডোজ শেষ করলেই হলে কাজ করতে পারবেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. তানজিল সওগাত বলেন,শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসময় আবাসিক শিক্ষার্থীরাদেরকে হলে প্রবেশ ও চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ ও দেন।

অন্যদিকে এক বছর ধরে খান জাহান আলী হলের সংস্কারের কাজও শেষের দিকে। এ হলের সব রুমের দেওয়াল নতুন করে রং করা হয়েছে, পুরাতন ব্যালকোনি ভেঙে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি রুমের লাইটগুলোও নতুন করে দেওয়া হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, আগামী ১৮ অক্টোবর সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেওয়া হবে। এদিন সকাল ৯টা থেকেই মাস্টার্স ও স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে। এছাড়া ২৬ অক্টোবর থেকে অন্যান্য বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে হলে প্রবেশ করতে পারবে। তবে হলে ওঠার আগে আবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র, টিকা গ্রহণের সনদ/রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি স্ব স্ব হলে জমা দিতে হবে। এ তথ্য জানান।