স্যানিটাইজারের গায়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা লেখার নির্দেশ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ফলে স্যানিটাইজার এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে পরিণত হয়েছে। তবে মারাত্মক দাহ্য এ পদার্থের ব্যবহার বিধি সম্পর্কে না জানায় বেশ কিছু মারাত্মক দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় সকল ধরণের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রের গায়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা যুক্ত করে বাজারজাত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশন এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মিলনের করা এক রিটের শুনানীতে হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম এই আদেশ দেন।

এতে বলা হয়, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জীবাণুনাশক স্প্রেসহ অনুরূপ সকল দ্রব্য অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ, এই দ্রব্যসমূহের গায়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা যুক্ত করে বাজারজাত করতে হবে। একইসঙ্গে গায়ের সতর্কতামূলক নির্দেশনা না থাকলে এসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবী ইশাদিয়া জামান বলেন, স্যানিটাইজার ও এই জাতীয় দ্রব্যসমূহে ব্যবহৃত উপাদান অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এই দ্রব্যগুলোর গায়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা লেখা থাকতে হবে। আমরা আমাদের আবেদনে এই বিষয়ে আদেশ চেয়েছিলাম। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মিলন ও ইশাদিয়া জামান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়েম মোহাম্মদ মুরাদ।

প্রসঙ্গত, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জীবাণুনাশক স্প্রেসহ এ ধেরনের দ্রব্যে ব্যবহৃত উপাদান অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এই দ্রব্যগুলোর গায়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা না থাকায় অজ্ঞতাবশত এসব দ্রব্য ব্যবহারে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি রাজধানীর হাতিরপুলে এক চিকিৎসক দম্পতি স্যানিটাইজারের আগুনে দগ্ধ হন। এতে নিউরোলজির চিকিৎসক রাজীব ভট্টাচার্য মৃত্যুবরণ করেন।