স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করে চালু হচ্ছে আরও ১৯ ট্রেন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা আরও ১৯ জোড়া ট্রেন আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে বেশ কিছু স্বাস্থবিধিও শিথিলের কথাও ভাবা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক মো. খাইরুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট রেল মহাপরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (অপারেশন) মধ্যকার এ সংক্রান্ত বৈঠকে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ট্রেনগুলো চালু করা হচ্ছে। একই সাথে রেল ভ্রমণে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা শিথিলেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চালু হতে যাওয়া ট্রেনগুলো হলো- মহানগর গোধূলী বা প্রভাতী, জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, তূর্ণা এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস, মহানন্দা এক্সপ্রেস (খুলনা-চাঁপাই), চাঁপাই-রহনপুর লোকাল, মহানন্দা এক্সপ্রেস (রহনপুর-খুলনা), পদ্মরাগ কমিউটার, নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস, সাগরিকা কমিউটার, উত্তরা এক্সপ্রেস, মহুয়া কমিউটার এবং বেতনা এক্সপ্রেস।

করোনাকালে বিমানবন্দর স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি স্টেশনে বিভিন্ন ট্রেনের স্টপেজ বন্ধ ছিল। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। বিমানবন্দর, জয়দেবপুর এবং নরসিংদী স্টেশনে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সকল আন্তঃনগর, কমিউটার এবং মেইল ট্রেন দাঁড়াবে। ভৈরব বাজারে শুধুমাত্র কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি কার্যকর হবে।

এছাড়াও আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে এসব স্টেশনের কোটায় টিকিট দেওয়া হবে। আর ৫ তারিখ থেকে রাত্রিকালীন যাত্রায় উচ্চশ্রেণিতে বিছানা-কম্বল দেওয়া হবে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকেই ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা, কফি, বোতলজাত পানি, প্যাকেটজাত খাবার (চিপস-বিস্কিট) সরবরাহ করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, যাত্রার দিনসহ ১০ দিন আগে আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ইস্যু করা হবে। করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কোচের ধারণক্ষমতার ৫০% টিকিট বিক্রয় অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয় করা যাবে। তবে অনলাইনে ক্রয়কৃত টিকিট ফেরত কিংবা রিফান্ড করা যাবে না। একইসঙ্গে সকল আন্তঃনগর ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি সম্পূণরূপে বন্ধ থাকবে।

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৪ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ সময় কিছু মালবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিলো।