সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গল্প- ‘ আমার ক্যাম্পাস ’

আমি এই বছর এস এস সি  পরীক্ষা দিয়েছি। আমার বিদ্যালয়ের নাম ছিল চান্দিনা সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।দীর্ঘ পাঁচ বছর এই ক্যাম্পাসে অধ্যয়ন করেছি। গত সাত থেকে আট মাস যাবৎ ক্যাম্পাস থেকে দূরে। আমার আমাদের ক্যাম্পাসটি ছিল অনেক বৃহৎ। ক্যাম্পাসে ছিল বড় একটি পুকুর। আর ঠিক মধ্যখানে ছিলো একটি বৃক্ষ চত্বর। আমাদের আড্ডা দেয়ার প্রধান স্থান ছিলো এই বৃক্ষ চত্বর।আমি কারিগরি শাখার ছাত্র ছিলাম।চত্বরটি ছিলো ঠিক আমাদের ভবনের সামনে। ক্লাসের,ফাঁকে সবাই এ-ই গাছতলায়( বৃক্ষ চত্বর) আড্ডা  দিতাম। আর দ্বিতীয় আড্ডা দেয়ার স্থান ছিলো স্কুলের টয়লেট। যা মনের মন্দীর নামে পরিচিত ছিলো।  আমাদের স্কুলে বালকদের কোনো কমনরুম ছিল না।তবে আমরা ছিলাম সৃজনশীল মানুষ। যার কারণে টয়লেটকেই পরিণত  করেছিলাম বড় কমনরুমে।
গত কয়েক মাস যাবৎ স্কুলে যাওয়া হয়না। আমার আসন ছিল পিছনের বেন্চে।পিছনের বেন্চে বসে করা দুষ্টামিগুলো অনেক মিস করি।
আমাদের স্কুলে গনিতের শিক্ষক ছিলেন আসাদ স্যার।তিনি কখনো ক্লাসে হাতে বেত নিয়ে আসতেন না।তবে তিনার পেন্টের পকেটে সবসময়ই একটি ছেটে সাইজের বেত থাকতো। পিছনের বেন্চে বসে সবসময় ভাবতাম তিনার পেন্টের পকেট কোন দর্জি তৈরী করে।
তারপরের পিরিয়ড ছিলো নোমান স্যারের। তিনি সবসময় ছেলেদের সৌন্দর্য নিয়ে ভাবতেন। তাই সবসময় ছেলেদের ইন করে স্কুলে আসতে বলতেন। কিন্তু গরমে অতিষ্ঠ হয়ে কেউ ইন করে স্কুলে আসত না। যখন তিনার ঘন্টা আসত তখন সবাই ছুটে যেত কমনরুম খ্যাত টেয়লেটে। বেল্ট থাকুক বা না থাকুক শার্ট পেন্টের ভিতর দিয়ে ইন করত। যা হয়ে ওঠত উল্টো অসৌন্দর্যের কারন। যা স্যারের মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যেত।
যখন বৃস্টি হয় তখন বেশি মনে পরে স্কুলের কথা। টিফিন পিরিয়ডে একদিন বৃষ্টি হয়েছিল। কোনে একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে  শুরু হলো ফুটবল খেলা। খেলা শেষে সবাই ঝাপিয়ে পড়লাম স্কুলের পুকুরে। যদিও আমি সাঁতার জানতাম না তাও বন্ধুদের সাথে পুকুরের পানিতে পা ভেজাতে পেরে খুব মজা পেতাম।
আর সবচেয়ে বেশি মজা হতো ব্যাবহারিক ক্লাস। কারন  ব্যাবহারিক ক্লাসে বানানো হতো যতো আজগুবি প্রজেক্ট।
যখন টিভিতে বিতর্কপ্রতিযোগিতা প্রচারিত হয় তখন ক্যাম্পাসের কথা বেশি মনে পরে।কারন  আমাদের স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতা দেখা যেত জাতীয় নেতাদের। কারন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিষয় যাই হোক না স্কুলের সকল সমস্যার কথা তুলতেই  হবে। যেমন দূর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তুলে ধরা হতো কোন  স্যার কত বেশি  টাকা টিউশন ফি নেয়। যা ছিলো  বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত হাস্যকর।
স্কুল শুরু হওয়ার আগে আমাদের একটা প্রাইভেট ছিল। যেদিন প্রাইভেটের বাড়ীর কাজ করতাম না সেদিন আর প্রাইভেট যাইতাম না। সেই সময়টায় আমরা গানের আসর বসাতাম।আরমান আলীফের গানের অপরাধী গান ছিল সেই আসরের প্রধান গান। বেন্চগুলো ছিল তবলা আর ঢোল।
আর সবচেয়ে বেশি মিস করি বিদ্যালয়ের সমাবেশ। বিগত কয়েক বছরে আমি কিংবা আমার বন্ধুরা কেউ জাতীয় সংগীত আর শপথ করছে কিন সন্দেহ আছে। স্যারেরা যেই ঘোষণা দেন কেন হাততালি তো আবশ্যক।হোক সেটা ছুটির খবর কিংবা শোক সংবাদ।
আর যখন৷ প্রথম পিরিয়ডে স্যার যখন নাম ডাকতেন তখন পিছন থেকে বন্ধুর হয়ে প্রেজেন্ট দিয়ে দিতাম।
আর সবচেয়ে বেশি মজা হয়েছিল স্কুলের বিজ্ঞান মেলায়। সেই দিনটাকে আমি বিয়ে বাড়ি থেকেও বেশি মজা করতাম। নিজেরা যেই প্রজেক্ট বানাইনা কেন আমরারটাই সবচেয়ে ভালো। আর অন্যের ভুল ধরতে পারলে সবচেয়ে বেশি মজা হতো। আর যখন উপস্থিত বক্তৃতা দিতাম তখন নিজেকে বড় কিছু মনে হতো।
আর আমাদের ক্লাসে যমজ দুই ভাই ছিল। সবসময় তারা সামনের বেঞ্চে বসতো। তারা দেখতে ছিলো অবিকল এক। পিছনের বেঞ্চে বসে সবসময় ভাবতাম তাদের মধ্যে তাদের বিয়ের পর কেমনে চিনব ।
 এখন আর ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়না। আর বন্ধুদের সাথে দেখা হয় না। আর প্রতিদিন সকলে আমাদের একটা কোচিং ছিল।শীতকালে সবাই কোচিং বাদ দিয়ে চা খাইতাম। আর যদি কোচিং এ দেরী হইত অজুহাত দিতা স্যার কুয়াশায় হাটতে পারছি না। কোচিং শেষে আসার সময় সবাই মজা করতে করতে হাটতাম।
এখন কলেজে ভর্তি হওয়া আর হয় না। যখন স্কুলে থাকতাম তখন এগুলো তেমন কিছু মনে হতো না তবে গত কয়েক মাস যাবৎ স্কুলে না যাওয়ায় খুব মিস করতেসি।যখন স্কুলে পরতাম তখন ওটাকে জেলখানা ভাবতাম।কিন্তু এখন মনে হয় ওটা ছিল স্বর্গ।