সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গল্প- ‘স্কুল ক্যাম্পাস’

স্কুল ক্যাম্পাস।

শুধুমাত্র ২ টি শব্দ,কিন্তু এর মাঝে লুকিয়ে আছে হাজারো স্মৃতি,হাজারো মজার ঘটনা। সাবেকদের জন্য স্কুল ক্যাম্পাস মানে হলো স্মৃতি আর স্মৃতি। তবে বর্তমানদের জন্য তাহলো অন্যরকম কিছু। যেমন ধরুন আড্ডা দেয়ার জায়গা,পড়ালেখার টা নাই বা বল্লাম। কারণ স্কুলে যাওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্যই হলো পড়ালেখা। স্কুল ক্যাম্পাস যে শুধু পড়ালেখা কিংবা আড্ডা দেয়ার যায়গা এমন না। এর সাথে জড়িয়ে থাকে কয়েকটা শব্দ যা বাস্তব জীবনে আমরা করে থাকি।

যেমন ধরূন খেলাধুলা এটি একটি শব্দ এটা আমরা বাস্তব জীবনে করি।তবে স্কুল ক্যাম্পাস হলে তো আর কথাই নেই।ফুটবল খেলতে গেলে মনে হয় ব্রাজিল-আরজেন্টিনা,ক্রিকেট খেলতে গেলে ভারত-পাকিস্তান ২ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ চলছে।যাক এই কথা বাদ দেই।এখন আসি আমি আমার ক্যাম্পাস কে কতটুকু মিস করছি।

আমি একজন ক্রীড়াপ্রেমী তাই প্রথমত স্কুল ছুটির পর ক্রিকেট খেলাটাকে এমন মিস করছি যেন মনে হচ্ছে স্কুল খুললে আর কয়দিন বাসায় আসব না। স্কুলেই থেকে যাব,বন্ধুদের সাথে ওইখানেই খেলাধুলা করব। আর বলে রাখি আমার স্কুল হলো কিশোরগঞ্জ জেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়।এখানে প্রতিজন শিক্ষক উচ্চ শিক্ষিত এবং স্মার্ট। তাদেরকে প্রাণের চেয়েও বেশি মিস করছি। তাদের কথা এতোটা মনে পড়ছে যে তা বলে বোঝানো সম্ভব না।

স্কুলে প্রথম যেদিন ভর্তি হলাম সেদিন শ্রেণী শিক্ষক বিশ্বস্ততার সাথে ক্লাসের অস্থায়ী ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করার দায়িত্ব দিলেন তারপর থেকে আর ক্লাস মিস করিনি এবং সেবার আমি ক্লাস ক্যাপ্টেন হত পেরেছিলাম।আমাদের স্কুল ২ শিফট এ চলে। আমি ডে শিফট এর ষষ্ঠ শ্রেণীর ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিলাম। আর আল্লাহর রহমতে এখনো আছি তাই সবসময় স্কুলে যেতে হয়। তাই বোধহয় স্কুলের প্রতি আমার টান টা একটু বেশিই তাই স্কুল কে খুব করে মনে পড়ছে। বিশেষ করে মনে পড়ছে স্যারদের দেওয়া কাজগুলো কে, দুই তলা থেকে নিচে নেমে মার্কার আনা,টিফিন এর বেল বাজতেই টিফিন আনতে যাওয়া,সবার মধ্যে টিফিন বিতরণ করা,টিফিন টাইমে লুকিয়ে ক্রিকেট খেলা,ছুটির পরে খেলতে থাকায় স্যারের কাছে বকুনি খাওয়া,স্যারদের বকুনি খেয়ে স্কুল সংলগ্ন স্টেডিয়ামে যাওয়া। তারপর ইচ্ছামতো খেলে ড্রেসে ময়লা ভরিয়ে বাসায় গিয়ে আবার মার কাছে বকুনি খাওয়া।

আসলে স্কুল মানে পড়ালেখার ফাঁকে বন্ধুদের সাথে একটু সময় কাটানো। আমরা যারা স্কুলে সবসময় একসাথে বসি তাদের সাথে একদিন এক বেঞ্চে না বসলে চলে না এখন দিনের পর দিন করোনাভাইরাস এর কারণে তাদের সাথে দেখাই হচ্ছে না। মাঝে মাঝে হঠাৎ স্কুলের জন্যে কাঁদতে ইচ্ছে করে। আসলেই আমার স্কুলটা কত সুন্দর।

সাবেকদের মুখে আবেগঘন কথা শুনে বুঝতাম না আসলে তারা স্কুলকে এতো মিস করে কেন।কিন্তু বর্তমান ছাত্র হয়েও মাত্র ৩-৪ মাস ক্লাস না করে খুব কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে কতদিন ধরে যাইনা স্কুলে,কতদিন ধরে দেখা হয়না সেই চিরচেনা মুখগুলো প্রাণের বন্ধুদের,কতদিন ধরে দেখা হয়না প্রাণের শিক্ষকদের সাথে। কতদিন ধরে প্রাণের ক্যাম্পাস্টা দেখতে পাইনা।সেখানে ক্রিকেট,ফুটবল খেলা হয়না।সেখানে টিফিন টাইমে চটপটি মামার সেরা চটপটিটা খাওয়া হয়না,খাওয়া হয়না রবিন মামার ঝালমুড়ি। দেখা হয়না অলি ভাই,আল আমিন ভাইদের সাথে। সত্যি স্কুল জীবনে তারা স্পেশাল মানুষ তাদের মতো মানুষের জন্য আমাদের অনেকের স্কুল জীবনটা অনেক খুশির।

মাঝে মাঝে স্কুলের স্মৃতির কথা মনে করে নিজে নিজেই হাসি,আবার বন্ধুদের কথা মনে হলে নিজে নিজেই কষ্টে নীরব হয়ে যাই,স্তব্ধ হয়ে যাই।কারণ তখন খুব মনে পড়ে বন্ধুদের। তবে একটা জিনিস ভেবে আবার খুব বেশি খুশি লাগে যে এই স্কুলটাতে আরো কয়েকটা বছর থাকছি। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে স্কুলটাকে বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর জন্য একটি আবেদন পত্র দেই যাতে পড়াশোনার শেষটাও এই স্কুলে করতে পারি। কারণ এই স্কুল,এই ক্যাম্পাস যে আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।

আবার মাঝে মাঝে চিন্তা হয় এই স্কুল ছেড়ে একদিন যেতে হবে এর চেয়ে একটি টাইম মেশিন আবিষ্কার করে ফেলি যাতে ৫ বছর পেরিয়ে গেলে আবার এই প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে পারি। আমার স্কুল আমার প্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয় তবে লকডাউনে বাসায় বসে যখন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি তখন গুগল এ স্কুলের নাম সার্চ দিয়ে স্কুলের ছবি দেখছি,দেখছি স্কুলের ক্যাম্পাসটাকে, অথবা ইউটিউবে নিজের চ্যানেল থেকেই প্রকাশিত একটি ভিডিও দেখছি। তখন মনে হয় যেন নিজের স্কুলের ভিতরে বসে আছি,ক্যাম্পাসটা বারবার ঘুরে ঘুরে দেখছি।

আমার স্কুলটি অনেক সুন্দর। যখন সমাবেশে এ দাঁড়াই তখন কিছুটা কষ্ট হতো এখন মনে হচ্ছে না, ওই কষ্টটাই ভালো এভাবে স্কুলকে না দেখতে পাওয়ার থেকে। প্রথম যখন ছুটি দিচ্ছে তখন এতোটা কষ্ট হয়নি,তবে এখন স্কুলকে প্রচন্ডভাবে মিস করছি। কারণ প্রায় ৪ মাস ধরে স্কুলের সাথে দেখা হচ্ছে না। এখন মনে হচ্ছে লুকিয়ে খেলাধুলা করার পর স্যারের হাতে একটু বকুনি খেয়ে আসি। খেলায় হারতে যাচ্ছি এমন সময় খেলা রেখে চলে আসতে খুব ইচ্ছা করছে। ইচ্ছা করছে ক্লাসরুমে বসে একটু পড়ার মাঝে দুষ্টুমি করতে।

তবে ইচ্ছা করলেই এখন আর তা সম্ভব না,কারণ এখন চলছে করোনার সময়।তবে তাও স্কুলকে আমাদের কাছ থেকে কোনোকিছুই দূরে রাখতে পারবে না। কারণ এই স্কুলের সাথে রয়েছে আমাদের অনেক মিলবন্ধন। আমি আমার স্কুলকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।