সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গল্প- ‘ কলেজ ক্যাম্পাস ‘

ঃ- তাড়াতাড়ি আয় মামা। আমি আম্বরখানা পয়েন্টে এসে যেন তোকে পাই। আজকে এমনিতেই দেরী হয়ে গেছে। তুই আর দেরী করিস না।

ঃ- এইতো আর দুই মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবো। নিজে দেরী করে ঘুম থেকে উঠে আমাকে সবসময় দোষ দিস।

ঃ- আয় মামা, আয়।

আবিরের রাত জাগার অভ্যাস। রাতে ঘুম আসে না তাই সে সবসময় ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমোয়। ঘুম থেকে উঠেই রাহিমকে মোবাইল কল করে। রাহিম সবসময় সকালে আবিরের মোবাইল কলের জন্য অপেক্ষা করে। আবির কল করার পর রাহিম বাসা থেকে বের হয়। আজকে আবিরের ঘুম ভাঙলো দেরী করে। কলেজের ফার্স্ট ক্লাস তাদের মিস হয়ে গেছে হয়তো। সেকেন্ড ক্লাস ধরতেই হবে।

ঃ- যাক, এসে পড়ছস। আমি তো ভাবলাম তোর জন্য সেকেন্ড ক্লাস মিস হয়ে যাবে।

ঃ- ও ও ও। ফার্স্ট ক্লাস কার জন্য মিস হইলো।

ঃ- আরে চল। কথা বলতে থাকলে ক্লাস মিস হয়ে যাবে।

ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ । চল।

কলেজে গিয়ে তারা ক্লাসের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। না কোনো শাস্তি নয়। তাদের কলেজে দেরী করে আসলে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। যে যখন ইচ্ছা কলেজে ঢুকতে পারে আবার যখন ইচ্ছা কলেজ থেকে বের হতে পারে। তারা সম্পুর্ন স্বাধীনতা কলেজ থেকে পেয়েছে। ক্লাসে এখনো ফার্স্ট ক্লাসের শেষের দিকটা বাকি। এখন ক্লাসে গিয়ে কিছুই বুঝতে পারবে না, তাই তারা ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছে।

কিছুক্ষণ পর মেডাম ক্লাস থেকে বের হয়ে এলেন। তাদেরকে কিছু বলতে গিয়ে বললেন না। তারা ক্লাসে ঢুকলো। আবির সবসময় মিড বেঞ্চে বসে। মিড বেঞ্চে বসলে ফার্স্টবেঞ্চার এবং লাস্টবেঞ্চার উভয়ের আনন্দ পাওয়া যায়। পাঁচ মিনিট পর বাংলার স্যার ক্লাসে প্রবেশ করলেন। বাংলার স্যারকে সবাই বাবা বলে ডাকে। উনি নিজেই বলেছেন বাবা বলে ডাকার জন্য। কলেজের প্রত্যেক টিচারের হেটার্স থাকলেও বাংলার টিচার মানে বাবার কোনো হেটার্স নেই। সবাই উনাকে খুব পছন্দ করে। পছন্দ না করারও কিছু নেই। প্রথম ক্লাসেই তিনি সকলের মন জয় করেছিলেন খুব সুন্দর একটা গান পরিবেশন করে।

ঃ- বাচ্চারা, সবাই কেমন আছো?

ঃ- ভালো আছি বাবা। আপনি কেমন আছেন?

ঃ- হ্যাঁ, বাবাও ভালো আছি।

তারপর শুরু হয় ক্লাস। আবির আর রাহিমের শুধু পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়টা ভালো লাগে না। শুধু তাদের নয় বরং তাদের সেকশনের প্রত্যেকের পদার্থ বিজ্ঞানের ক্লাস ভালো লাগে না।কারণ পদার্থের স্যার খুবই আলসে। তাই পদার্থ ক্লাস আসলে সেকশনের অর্ধেক শিক্ষার্থী চলে যায় অপর সেকশনে। আর বাকিরা সম্মানের খাতিরে ধৈর্য ধরে বসে থাকে। আবির আর রাহিম মাঝে মাঝে পদার্থ ক্লাসে থাকে তবে যখন আবিরের বা রাহিমের ভালো লাগে না তখন তারাও অপর সেকশনে চলে যায়।

কলেজে তাদের বন্ধুর সংখ্যা মন্দ নয়। অনেক ছেলে বন্ধু এবং মেয়ে বন্ধু আছে। আগেই বলেছি তারা সম্পুর্ন স্বাধীনতা পেয়েছে। মাঝে মাঝে খুব বোরিং লাগলে তারা সকল বন্ধুরা মিলে কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে। ক্যাম্পাস অনেক বড় হওয়ায় অনেক্ষণ তারা হেটে হেটেই সময় কাটায়। কেউ সুন্দর গান গায়,কেউ কোনো স্যারের ডায়লগ নকল করে তাদের আড্ডা জমায়।

দিনশেষে সকলে সকলের বাসায় উপস্তিত হয়। নতুন একটা দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। নতুন দিনটা যেন আরো সুন্দর যায় সেই পরিকল্পনা করেই তারা আজকের দিনকে বিদায় জানায়।