সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গল্প- ‘প্রিয় ক্যাম্পাসকে খুব মিস করছি’

স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে শুরু হয় ছাত্র জীবনের নতুন এক অধ্যায় – বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ।জীবন কে আরো সাফল্যমণ্ডিত করতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তবে তার আগে তাঁদেরকে সামিল হতে হয় ভর্তি পরীক্ষা নামে এক বিশাল ভর্তিযুদ্ধে।কেও কারো প্রিয় বিষয়,প্রিয় ক্যাম্পাস এ ভর্তির জন্য দিতে হয় পরীক্ষা।অনেকের ইচ্ছা থাকে ইঞ্জিনিয়ারিং কেউবা মেডিকেল আবার অনেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

মাত্র ২-৩ মাসের স্বল্প সময় প্রস্তুতি শেষে তাঁকে বসতে হয় আকাঙ্ক্ষিত পরীক্ষায়;দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী দের সাথে সামিল হতে হয় এতে।
কেউ ফিরে আসে বিজয় বেশে আবার কেউ নতুন কোন পথে হাঁটা দেয়।

ঠিক অনুরূপ ২০১৯-২০ সেশনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন পরীক্ষা দিয়ে আমার সুযোগ হয় পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তির।জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পাড়ি দেই নতুন এক অচেনা শহরে;যেখানে রুমমেট-ডিপার্টমেন্ট বন্ধুরা আমার অভিভাবক আবার তারাই আমার বন্ধু-বান্ধব।

সবুজে ঘেরা ১০১ একরের এই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রথমেই আমার নজর কাড়ে। ক্যাম্পাসের উঁচু উঁচু গাছের ছায়ায় ঘেরা ‘শান্তিনিকেতন টঙ’ এ সবসময় লেগে থাকে বন্ধুদের আড্ডা।চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কেটে যায় অনেকটা সময়।বিকেলে স্নিগ্ধ রৌদে ক্যাম্পাস গেটের পাশেই বলপয়েন্ট আকৃতির শহীদ মিনারের পায়ে বসে গানের আসর।টানা ক্লাসের ক্লান্তি শেষে অনেকে আবার সূর্যাস্ত উপভোগ করে নীলদীঘি বেঞ্চি তে বসে।সূর্যাস্ত পড়তে পড়তেই শেষ লাল বিআরটিসি বাসের সিট পেতে যেনো এক হুড়াহুড়ি লেগে যায়।অনেকে আবার বাসের গেটে দাঁড়িয়ে ছোট্ট নোয়াখালী শহরের বাতাসের দোল খেতে গান ধরে বেসুরা কণ্ঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নতুনদের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নবীণবরণের পাশাপাশি ডিপার্টমেন্ট থেকে নেওয়া হয় ‘ফ্রেশার রিসিপশন’ অনুষ্ঠানের।দুপুরের শুভেচ্ছা বক্তব্য হওয়ার পর বিকেল গড়াতে গড়াতে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।আমরা নবীনরা সহ বড় ভাইয়া-আপুরাও এতে অংশগ্রহণ করে।অবশ্য আমার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বেশ সুনাম পেয়েছি ভাইয়া আপুদের।সাথে অংশগ্রহণ করেছিলাম সাংস্কৃতিক পর্বেও।সৌভাগ্য হয় ব্যাচ ১১ বিদায় অনুষ্ঠান,মাঘসংক্রান্তি পর্ব ও শব্দকুটিরের মেলা উপভোগ করার।

দিন যেতে যেতে ক্লাসের ব্যস্ত শিডিউলে ভালোই যাচ্ছিল দিনকাল।স্যার-ম্যাডামদের পাঠ,সপ্তাহ শেষে সিটি,লাইব্রেরি তে বুকসেল্ফ থেকে নিজের বিষয়ের বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বই খুঁজে পড়া এভাবে ২-৩ মাসের শেষে খুব নিকটে এসেছিল সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।কিন্তু হঠাৎ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিভিন্ন জায়গা লকডাউন শুরু হয়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পক্ষ থেকে দেওয়া হয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণা।খুব মন খারাপ লাগছিল আবার কবে ফিরে আসতে পারবো প্রিয় ভালবাসার ক্যাম্পাসে,মেসে ফিরে সবাই আস্তে আস্তে ব্যাগ গুছিয়ে একসাথে রওনা দেই পরের দিন ভোরের উপকূল ট্রেনে।প্রায় ২-৩ মাসের লকডাউনে এখনো ফিরে যাওয়া হয়নি ক্যাম্পাসে।বাসায় বসে কাটাতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ঈদ নামক ‘পহেলা বৈশাখ’ দিন।হয়তো ক্যাম্পাসে থাকলে রং-বেরঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পড়ে সেন্ট্রাল মাঠে ঘুরতাম বিভিন্ন স্টলে।খেতাম মুড়ি-মুটকি-পিঠা।ঈদ টাও কেটে গেলো সকলকে ছাড়া।

তাও ভরসা রাখি এই স্থবির সময় কেটে একদিন বিকেলের বাসে করে ফিরবো প্রাণের শহর নোয়াখালী,মন খুলে গল্প করবো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে।অনেক দিন ভরদুপুরে সোহেল মামার দোকানে গরম গরম ভাতের সাথে আলু ভর্তা-ডাল খাওয়া হয় না।পার্কভিউ ক্যান্টিনে ক্লাসের আগে আগে তাড়াহুড়ো করে খাওয়া রঙ চা কে বড্ড বেশি মিস করি।মিস করি বন্ধু গুলো কে।ভালো থাকিস সবাই।