সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গল্প- ‘ক্যাম্পাসের দিন গুলো’

….. নিয়ম করে রোজ সকালে বেজে উঠে ৬.২০ এলার্মের ক্রিং ক্রিং শব্দসুর।সপ্তাহের পাঁচটা দিন এই এলার্ম টিউনের সাথে আমার নিত্য সন্ধি।
একটি ব্যস্ত দিনের সূচনা, তড়িঘড়ি করে ফ্রেশ হয়ে কোনদিন কিছু মুখে দেয়া হলেও প্রায়ই শুন্য পেটেই ব্যাগ কাঁধে বেড়িয়ে পড়ি।
৩ মিনিটের দ্রুত হাঁটার স্ব প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে পৌঁছে যাই চৌরাস্তার মোড় ।
অপেক্ষা একটি লাল বাসের। লাল রংয়ের বিভিন্ন বাস থাকলেও কাঙ্খিত লাল বাসটি আমার কাছে বিশেষ একটি অনুভূতি ও ভালোবাসা ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় লগোর বাসটি রাস্তার বাম মোড় ঘেঁষে এসে সামনে হাজির হয় সঙ্গে গেটে অপেক্ষমান থাকে সিয়াম, সাহস ও রাহাদ নামের প্রিয় বন্ধু গুলা। এভাবেই দরজায় দ্বাঁড়িয়ে যান্ত্রিক শহরের হাওয়া গায়ে মাখিয়ে ছুটে চলে দোতলায় প্রিয় লাল বাস।ক্যাম্পাসে পৌঁছে কোনদিন হাতে কিছু সময় থাকলে শুন্য পেটে হাজির হই রমজান মামার কলা পাউরুটি কখনো বা রহিম ভাইয়ের ডাল পুরির দোকানে।
অসংগত নানা কারণে মাঝে মধ্যই প্রথম ক্লাসে উপস্থিত হতে দেরি হয়ে যায়। ম্যামের কড়া প্রশ্নে বরাবরই উত্তর থাকে রাস্তায় ভীষণ জ্যামের সঙ্গত মিথ্যা অজুহাত।৫০ মিনিটের টানা ২/৩ টা ক্লাশ শেষে মিলে মুক্তি।
মনে হয় জেল খানায় কয়েদি হয়ে ছিলাম এতক্ষণ। যদিও পছন্দের ম্যামের ক্লাসে আমরা বড্ড মনোযোগী।
মুক্তির আনন্দ ভাগাভাগি করতে চলে আসা হয় শান্তচত্বর নামের শাম্তির জায়গায়।
পুরো শান্তচত্বর জুড়ে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর আড্ডার পায়তারা। আদিবের কন্ঠে হঠাৎ গেয়ে উঠা সেই তুমি গানে সুর মিলিয়ে গাওয়া হয় গান সঙ্গে জোর করতালির কম্পন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ক্যাম্পাস এরিয়ার যে সংকীর্ণ সীমাবদ্ধতা তা কখনোই অনুভব করতে দেয় নি ক্যাম্পাসের বটতলা, কাঁঠালতলা ও প্রেমচত্বরের মতো জায়গা গুলো।
ক্যাম্পাসের যেন আরো প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে এসব জায়গার উপস্থিতি তে।
ছোট পরিধির এই ক্যাম্পাসে হাজার হাজার লোকের ভীড়েও নিত্যদিন প্রিয় লোকগুলোর দেখা মেলা একটা ভিন্ন অনুভূতি যোগ করে।
পরিচিত বড় ভাই-বোন গুলোর নিকট ক্যাফেটেরিয়া কখনো টিএসসিতে ট্রিট নেয়ার আবদার গুলো বরাবরই আনন্দদায়ক।বন্ধদের সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ার গোল হয়ে বসে গরম খিচুরি কখনো বা চায়ের চুমুকে কফি হাউসের গানের বাস্তবায়ন ঘটে।
মাঝে মাঝে অনুষ্ঠিত হওয়া কনসার্ট গুলোতে কাঁধে কাঁধে হাত রেখে গলা মিলিয়ে গাওয়া গানে কম্পিত হতো ক্যাম্পাসের প্রতিটা কোণা।এই ক্যাম্পাসে শত শত গল্প তৈরি হয় রোজ।শত শত ছেলে মেয়েরা স্বপ্ন বুনতে শেখে এ ক্যাম্পাসে পা রেখে।
প্রেমিক যুগলের পাশাপাশি যাওয়া আসার গল্পগুলো সৃষ্টি করে বিশ্বস্ত মানুষটির সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস।
ক্যাম্পাস আমার ২য় পরিবার।
মন খারাপে ভালো থাকার কারণ হিসেবে উপস্থাপন হয় প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটা দালান প্রতিটা গাছের শীতল ছায়া।রোজ দিনের ৩/৪ ঘন্টার পুরোটা সময় কাটে বন্ধুদের সঙ্গতায়।
ক্লাশ শেষে শেষ সময়ে আড্ডা জমে অণিবার্ণ,চন্দ্রা নামক বাসের ২য় তোলা কখনো বা শ্বান্তচত্বরের তটে।
হাতে থাকে বন্ধুর ট্রিটের আইসক্রিম বা কোকাকলা কখনো বা এ ট্রিট দিতে হয় নিজেকে পকেট খালি করে।
শেষ সময়ে সবার ছুটন্ত পনায় খালি হতে থাকে ক্যাম্পাস ভরে যায় শুন্য বাসের সব সিট।
ফিরতি পথে আবার সেই বাসের দরজায় দ্বাঁড়িয়ে সম্মিলিত কন্ঠস্বরের তীব্র আওয়াজ…..
ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে সকল ব্যস্ততা,
ফিরে যেতে ইচ্ছে করে আবার বন্ধু আড্ডায়।
করোনার প্যান্ডেমিক পরিস্থিতিতে আজ কয়েকমাস যাবত ক্যাম্পাস থেকে বহুদূরে।
প্রিয় ক্যাম্পাস এখন শুধু স্মৃতির পাতায়।
ভালো থাকুক প্রিয় ক্যাম্পাস সবসময় ❤