সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গল্প- `ক্যাম্পাসে আবার ফিরব কবে?’

বেশিদিন হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। মাত্র তিনমাস ক্লাস করার সুযোগ হয়েছিল। পরেই তো করোনার তান্ডবে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেল। ঐ তিনমাসেই ক্যাম্পাসের অনেক স্মৃতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রায়ই সেই স্মৃতিগুলো মনের কোণে উকিঁ দেয়। যেদিন আমি প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রবেশ করেছিলাম, ক্যাম্পাসের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে আমার মন জুরিয়ে গিয়েছিল। লাল মাটির পাহাড় আর সবুজের সমারোহ আমাকে করেছিল বিমোহিত। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে ক্যাম্পাসটিকে। এ তো গেল ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা। এবার আসি ক্যাম্পাসের মানুষের প্রসঙ্গে। ঐ তিনমাসে সিনিয়র ভাইয়া ও আপুদের কাছ থেকে অনেক স্নেহ ও পরামর্শ পেয়েছি এবং এখনো পাচ্ছি। স্যারদের ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট,প্রেজেন্টেশন আর কুইজেই তখনকার দিনগুলো শেষ হয়ে যেতো। ব্যস্ততার দৌড়ে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পরতাম। এখন সেই ব্যস্ত দিনগুলোকেই মিস করছি। আর ঐ তিনমাসে সবথেকে বেশি আপন হয়ে গিয়েছিল আমার সহপাঠীরা। আমরা প্রথম একসাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম ক্যাম্পাসের ভেতরেই একটা পাহাড়ের ওপর। তারপর সবাই হাঁটতে হাঁটতে গিয়েছিলাম ক্যাম্পাসের শহীদমিনারে। এই ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়েই আমাদের মধ্যে সৃষ্ট বন্ধন আরও দৃঢ় হয়ে উঠেছে। পরবর্তীতে একদিন কুমিল্লার বিখ্যাত শালবন বিহারে আমাদের যাওয়া হয়েছিল। আড্ডায়, গল্পে মুখরিত ছিল সেই দিনটি। আরও কিছুদিন পরে আমরা সবাই গিয়েছিলাম কুমিল্লার ওয়ার সিমেট্রিতে। সেদিন বেশ কষ্ট হয়েছিল আমাদের। কারণ অনেকটা পথ আমরা হেঁটে গিয়েছিলাম। এরপর কিছুদিন টানা ক্লাস ও পরীক্ষায় ব্যস্ত থাকায় কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। সবাই মিলে ঠিক করেছিলাম কুমিল্লার স্বর্ণমন্দিরে যাব। কিন্তু করোনার কারণে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। ঐ তিনমাসের মধ্যেই বিভিন্ন ক্লাব যেমন: সাইন্স ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি এগুলোতে যুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। ঐ তিনমাসের ভেতর একুশে ফেব্রুয়ারিও ছিল একটি দিন। মনে পরছে সেই দিনটির কথা। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আমরা সবাই ক্যাম্পাসেই ছিলাম। রাতের ক্যাম্পাস এর আগে কখনো দেখিনি আমি। ক্যাম্পাস সেদিন এক নতুন রূপে সজ্জিত হয়েছিল। প্রায়শই দেখতাম ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমরা বন্ধুরা মিলে সেখানে যেতাম অনুষ্ঠান উপভোগ করতে। আবার কবে সবাই একসাথে কাঠালতলায় বসে আড্ডা দিতে পারব জানিনা। আবার কবে আমরা বন্ধুরা মিলে ‘মামা’ হোটেলে খেতে পারব তা ও জানিনা। একদিন এই করোনা-মহামারী অবশ্যই দূর হবে। সেদিন হয়তো আবার প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে পারব।