সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গল্প- ‘ক্যাম্পাসের গল্প’

সেদিন সন্ধ্যায় হলের ভেতরে যেই ফাঁকা জায়গাটা আছে সেখানে বসে আমরা বান্ধবীরা মিলে গল্প করছিলাম।
“তিশা মনি, এইদিকে আসো তো।”
হঠাৎ করে ডাকটা শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি হলের বারান্দাতে দাড়িয়ে অন্তরা আপু ( আমার সিনিওর আপু ) আমাকে ডাকছে।
আপুর কাছে গিয়ে গেলে আপু আমার মুখে একটা মিষ্টি দিয়ে বললো, ” সেই কখন থেকে আমি তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।”
আমি বললাম,” কিসের মিষ্টি আপু??”
আপু বললো, ” জানোই তো আমি নাহিদকে ( আমাদের হলের ডাইনিং এর মামার ছেলে) প্রাইভেট পড়াই। তো আজকে পড়ানোর পর মামা আমাকে এই ২ টা মিষ্টি খেতে দিয়েছে। আর আমি কি এই পাগলিটাকে না দিয়ে একা একা খেতে পারবো নাকি।”
আপুর কথা শুনে আমি আপুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। আপু আমার চোখ মুছে দিয়ে বললো, “আমার বোনটা কান্না করলে কিন্তু আমার একটু ও ভালো লাগে না।”

সে দিন আমি উপলব্ধি করলাম , আসলেই রক্তের সম্পর্কের বাইরে ও এমন অনেক সম্পর্ক গড়ে ওঠে যেই সম্পর্ক গুলো আজীবনের জন্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। আর সেই জন্যেই হয়তো আমার অজান্তেই আপু কখন যে আমার মনের মধ্যে বড় বোনের স্থানটা দখল করে নিয়েছে আমি বুঝতেও পারিনি।

আপুর সাথে আমার পরিচয় খুব বেশি দিন এর না। আপুর সাথে আমার পরিচয় হয় আমার এক বান্ধবীর মাধ্যমে। আমরা প্রথম বর্ষে আর আপু মাস্টার্সে পড়ে।

এরপর বেশ কিছু দিন কেটে যায়। আপুর মাস্টার্স পরীক্ষা ও শেষ। হল থেকে নোটিশ দেওয়া হলো কিছু দিনের মধ্যেই আপুদের হল ত্যাগ করে হবে।

একদিন সন্ধ্যে বেলা আপু আমার রুমে এলো ,” এসে আমার হাতে একটা ডাইরি দিয়ে বললো ,
” আমার সম্পর্কে যা তোমার মন চায় সেইটা এই ডাইরিতে লিখবে। আমি এইটা এখন পড়বো না,, এইখান থেকে চলে যাওয়ার পর বাসায় গিয়ে পড়বো। কিন্তু একটা শর্ত আছে শুধু বেছে বেছে ভালো কিছু লিখলে হবে না কিন্তু। ভালো খারাপ সব বৈশিষ্ট্য লিখতে হবে যেনো আমি সেই খারাপ বৈশিষ্ট্য গুলো নিজের ভেতর থেকে দূর করতে পারি। ”

আমি শুধু বললাম ,” আমি তো অত গুছিয়ে লিখতে পারবো না আপু। ডাইরি লেখার অভ্যাস আমার নাই। আমি তো এক পৃষ্ঠা ও লিখতে পারবো না।”

আপু বললো,” এইসব তো আগে থেকে ভেবে লেখার বিষয় না। লেখার সময় দেখো আমার কত দোষ তোমার মাথায় আসবে তুমি লিখে শেষ করতে পারবে না।
কথাটা বলে আপুও হাসলো আমিও হাসলাম ।
আমি সেদিন রাতে ডাইরিতে লিখতে বসলাম , প্রথম প্রথম মাথায় কিছু আসছিল না, কিন্তু যখন লিখতে শুরু করলাম কিভাবে যে এত কথা মনে এলো বুঝতে পারলাম না। ডাইরিতে কি লিখেছিলাম আমি নিজেই এখন মনে করতে পারি না।”

পরের দিন সকাল বেলা আপুকে ডাইরিটা দিয়ে দিলাম। আপু বললো, ” এত তাড়াতাড়ি লেখা শেষ !! কত পেজ লিখেছ রে পাগলি? এক পেজ নাকি ২ পেজ।
আমি শুধু বললাম, “আপু, আপনি নিজেই দেখে নিয়েন।”
এর পর এলো সেই দিন,
ক্লাস করে হলে ফিরে দেখি , আপু ব্যাগ পত্র নিয়ে হলের গেট এ দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে আপু বললো, ” এখন আসলেন আপনি। আমি সেই কখন থেকে পাগলীটার জন্য দাড়িয়ে আছি। তার সাথে দেখা না করে তো যেতে পারবো না।”

এর পর আপু আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো, আমিও আপুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম।
আসার আগে অন্তরা আপু অন্য এক বড় আপুকে বললো, ” পাগলিটাকে দেখে রাখিস।”

ক্যাম্পাস জীবনে অনেক ভালো বন্ধু যেমন পেয়েছি তেমনি এই ক্যাম্পাস আমাকে একটা বড় বোন ও উপহার হিসেবে দিয়েছে।