সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গল্প- ‘ক্যাম্পাস জীবন’

প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু অধ্যায় থাকে যা কখনো চাইলেও ভুলা যায় না।ক্যাম্পাস জীবন হলো তার মধ্যে একটা। আমি একজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। অনার্স প্রথম বর্ষ অধ্যায়ন করছি।আসলে যখন কলেজ জীবনে ছিলাম তখন অনেক বড় ভাইয়া আপুরা বলতো জীবনের আসল মজাটা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জীবনে। দিনের শুরুতেই ক্যাম্পাসে যাওয়া তারপর ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পুরো দিনের অর্ধেকটা সময় ক্যাম্পাসে কেটে যায়। এখন বর্তমানে বাংলাদেশে মহামারী কোভিড-১৯ এ থমকে আছে। সেই ক্যাম্পাস বন্ধ দিয়েছিল এই কোভিড ১৯ এর কারণে।

বলা যেতে পারে,ঔ দিন থেকে মায়াময় এই পুরো পৃথিবী যেন থমকে আছে।চারিদিকে গাছপালা আছে ঠিকই কিন্তু কোন সুভাস নেই,চারিদিকে পাখি আছে ঠিকই কিন্তু সে আগের মত কোন কোলাহল নেই।এই সময়ে প্রিয় ক্যাম্পাস,ক্যাম্পাসের প্রিয় বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয় শিক্ষকগণদের খুব মিস করছি। জানিনা কখন দেখা হবে।তবে সোনালী দিনগুলো কে আবারো ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি ।ক্যাম্পাস জীবন শুরু হলো কয়েক মাস হয়েছে।

সময়টা অল্প হলেও মায়াময় ছিল।আসলে তখনের ভাইয়া আপুদের সেই কথাগুলো সত্যিটা তখন উপলব্ধি করতে না পারলে ক্যাম্পাস জীবনে পা দেওয়ার পর সেটা উপলব্ধি করছি।রীতিমতো ক্লাস করতে করতে যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি।কোন কারণে একদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা না হলে মনে হতো না সারাদিনের মতো।মনে হতো সারাদিন আমি ঘুম ছিলাম।ক্যাম্পাসে যাওয়া নিয়ে শুরু হতো দিনটা।এখনতো শুধু এই আশায় দিন যাচ্ছে কখন আবার ক্যাম্পাসে যাব।ক্যাম্পাসের কাটানো দিনগুলো চাইলেও ভুলা যাবে না।

সবাই মিলে ক্যান্টিন আড্ডা দেওয়া,চা খাওয়া,ক্লাস শেষে হাওয়া করে গানের আসর বসানো-অন্যরকম একটা অনুভূতি যা হয়তো এই খাতা কলমে লিখে কিছু বাক্যে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।তাছাড়া এত বন্ধুর মতো আচরণ করতো অন্যরকম একটা অনুভূতি বোধ কাজ করতো।

ক্লাস শেষে অনেক সময় স্যারদের মধ্যে কিছু স্যার ও মাঝে মাঝে ম্যাডামরা ও জমা হতো গানের আসরে।বিশেষ করে যখন আমাদের সকলের হাতে তাল থাকতো।অন্যরকম একটা মুহূর্ত কাটতো, খুব মিস করতেছি দিনগুলা। অন্যরকম ছিল সেই সোনালী দিনগুলো।

এখন শুধু একটাই প্রশ্ন,”কবে সুস্থ হবে এই পৃথিবী”? “কবে আবার ফিরে যাবো ক্যাম্পাসে”? খুব মিস করতেছি।
এছাড়া ক্যাম্পাসের সেই লালিত কুকুরদের।কেন যেন এক মায়া জড়িত সম্পর্ক হয়েছিল তাদের সাথে এই অল্প কয়েক মাসে। ক্যান্টিনে চলে আসো আমাদের সবাইকে একসাথে দেখে।এরা সাধারানত ক্যাম্পাসেই থাকে বের হলেও ক্যাম্পাস এলাকার বাইরে যায় না।

কোন কারণে অনেক সময় ক্লাসে স্যার অনুপস্থিত থাকলে ও ক্লাসের সময়টাতে বন্ধুবান্ধব সবাই একসাথে ঘুরাঘুরি করতাম। অনেক সময় ক্লাস করতে বিরক্ত লাগলে ক্লাস না করে উপস্থিতি দিয়ে পালিয়ে যেতাম এরপর আড্ডা দিতাম খুব মিস করতেছি দিনগুলো।

ক্যাম্পাসের মায়াময় সৌন্দর্যের ছোয়ার মাঝে মাঝে মনে হয় বাসায় না আসি।সারাদিনটা ক্যাম্পাসেই কাটায়। ক্যাম্পাসটা আমার কাছে পরিচিত মনে হলেও নতুন ভরের সাথে যখন পরেরদিন ক্যাম্পাসে যায় আমার কাছে মনে হয় নতুন একমায়াৎজায়গায় এসেছি। মহামারী কোভিড-১৯ কোয়ারান্টিনের বন্ধ জীবন আর কয়দিন।ক্যাম্পাসের মুখ দেখেছি প্রায় তিন মাস হলো।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসে রঙিন সাজ।আহহ! এ বছর ১৪ এপ্রিলে নববর্ষ পালন করা হলো না খুব মিস করতেছি ক্যাম্পাস বন্ধুবান্ধব,স্যার-ম্যাডামদের।আমাদের ক্যাম্পাসে কোন বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হলে এর কয়েকদিন আগে ক্লাস শেষ করে সবাই মিলে ওই আয়োজনের আলোচনার জন্য এক বৈঠকখানা সৃষ্টি হয়, সেখানে সবাই আমরা মিলে আলোচনা করি।কেউ বলেছিলে,”ইচ্ছেগুলো সহজে ছুঁয়ে দেখা যায়,ছুঁয়ে দেখা যায়।বিরহী শহরে নিষ্ঠুর ভোরের পাখিরা এখনো গান গায়,এখনো গান গায়। সূর্য ডুবে আধার নামে,কোলাহল তবু থামে না।হাজার মনের উচ্ছ্বাস জাগে,ক্লান্তি কভু আসে না।সময় যদি থমকে যায়,তবুও সময় যদি থমকে যায়,ক্যাম্পাসের ভালোবাসা তখন আরো ও মোহিত হয়ে যায়”।

এছাড়া ক্যাম্পস জীবনের অন্যরকম একটা মজার মুহূর্ত হচ্ছে বাসে যাতায়াতের মুহূর্তটা। সব বন্ধু-বান্ধব মিলে আড্ডা দেওয়া, ক্লাস শেষে ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে বাসের জন্য অপেক্ষা করা।অনেক সময় আড্ডা দিতে দিতে ক্লান্তির ভরে ঘুমিয়ে যেত। ঘুমিয়ে যাও বন্ধু- বান্ধবীর ঘুমিয়ে যাওয়া ছবি নিয়ে তার সাথে মজা করা। ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী বেশী হওয়ায় বাসে জায়গা হতো না।যেহেতু আমাদের ডিপার্টমেন্টের বাস আলাদা তাই আমাদের সবার সবার কাছে সবার মুখ পরিচিত ছিল যার জন্য এত অসুবিধা হতো না।ক্যাম্পাস জীবনের আসল মজাটা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার পরই বুঝি। এখন বন্ধুদের কতটা মিস করতেছি হয়তো প্রকাশ করতে পারবো না তবে এটা বলব আমার জীবনের জীবনটা বন্ধুবান্ধব ক্যাম্পাসের ক্লাস আর শিক্ষকদের ছাড়া অসম্পূর্ণ।