সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গল্প- ‘ক্যাম্পাস জীবন’

ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে শিক্ষক হবো। সেই ইচ্ছা পূরণ করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে জীবনের সকল পরীক্ষাগুলো উত্তীর্ণ হয়ে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধে নেমে পড়লাম বাকি সবার মতোই।অন্যদের যেমন ইচ্ছে ছিল ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার হওয়ার, আমার সেখানে ইচ্ছে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ভালো ফলাফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার।
যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করে দিলাম কষ্ট করে দেওয়া নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য।
কিন্তু শুরুতে সবকিছু আমার জন্য ব্যার্থ হয়ে দাঁড়ালো। অবশেষে আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে সেই সুযোগ টা দিয়ে দিল।

ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্বতন জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৫৮ সালে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশ করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমি প্রথমে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে পড়াশোনার সুযোগ পাই এবং পরবর্তীতে বিভাগ পরিবর্তন হয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হয়ে যাই।অন্যসব শিক্ষার্থীদের থেকে আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একটু দেরি করে শুরু হলেও ক্যাম্পাসের প্রতি আমার ভালবাসা অনেক।
আমার ক্যাম্পাস ছোট হলেও এখানে সবার মধ্যে রয়েছে একে অপরকে সাহায্য করার মন মানসিকতা। একজনের বিপদে বড় ভাই-আপু থেকে শুরু করে ছোট ভাই-আপু, বন্ধু-বান্ধব সবাই পাশে এসে দাঁড়ায়।
আমার ক্যাম্পাস জীবনের শুরুতেই বড় ভাই-আপুদের থেকে অনেক আদর ও শিক্ষনীয় উপদেশ পেয়েছি। প্রতিবছর আমাদের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষে আমাদের বনভোজনে নিয়ে গিয়েছিল টাঙ্গাইল জমিদার বাড়িতে। সেই মুহূর্তগুলো আমার জন্য অনেক সুন্দর মূহুর্ত কারন আমরা সবাই অনেক মজা করেছিলাম। সেই বনভোজনে খেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মাননীয় চেয়ারম্যান স্যার এর থেকে পুরষ্কার অর্জন করেছিলাম।
বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী দিনগুলোতেও ক্যাম্পাসকে অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়ে থাকে এবং সকলে সেই আয়োজনে অনেক মজা করি আমরা।

আমার ক্যাম্পাস আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর একটি ক্যাম্পাস। আমার ক্যাম্পাসের সকলের মধ্যে যে মিলবন্ধন রয়েছে সেই ব্যাপারটি সত্যিই অতুলনীয়।ক্যাম্পাস জীবন আমি খুব কম সময় কাটাতে পেরেছি কারন তার মধ্যেই করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে সবকিছু।
কিন্তু যতদিন কাটাতে পেরেছি ততদিন আমার অনেক সুন্দর মূহুর্ত ছিল। আমার ক্যাম্পাসের শান্ত চত্বরে সবাই যখন একসাথে বসে গল্প করে তখন সে দৃশ্যটি অপূর্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল বাসগুলো যখন সারিবদ্ধভাবে চলে তখন আশেপাশে সবাই তাকিয়ে থাকে এবং সে মূহূর্তে নিজের গর্ববোধ হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব মনে পড়ছে সেসকল দিনগুলোর কথা। বন্ধুদের সাথে কাটানো মূহুর্তগুলোর কথা। পরিসংখ্যান বিভাগের সকল শিক্ষকদের কথা ও তাদের দেওয়া উপদেশগুলোর কথাও ভীষণ মনে পড়ছে। শহীদ রফিক ভবনে একসাথে সবার পরীক্ষা দেওয়ার কথা, একসাথে সব বন্ধুরা মিলে বটবৃক্ষের ছায়ায় গল্প করার মূহুর্ত সবকিছুই এখন স্মৃতি হয়ে রয়েছে। পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠলে আবার জমবে আমার ক্যাম্পাসের আঙিনা। সেদিনের অপেক্ষাতেই দিন,সময় পার করছি। দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়তে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি আমি। এখন শুধু নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য ভালোভাবে পড়াশোনা‌ করে যাওয়া লাগবে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় আমার গর্ব, আমাদের সকলের ভালোবাসা।