সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গল্প- ‘কান্না-হাসির অন্তরালে’

স্কুল সবার জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং দীর্ঘ সংগ্রাম জীবন অর্থাৎ ১০ বছরের সাধনা জীবন। এ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় হাসি কান্নায় পরিপূর্ণ স্মৃতিতে। স্কুল জীবন সকলের কাছেই গুরত্বপূর্ণ কারণ এ সময়ে যে নিজেকে যেভাবে গড়ে তুলবে সে পরবর্তী জীবনে ততটা সাফল্য অর্জন করবে। এই ১০ বছরের মধ্যে আমরা আমাদের জীবন গুছিয়ে নিই। তাই আমাদের উচিত এই স্কুল জীবনের সময় যথাযথভাবে প্রয়োগ করা। এছাড়াও রয়েছে সকল বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক । স্কুল জীবনের স্মৃতি সকলের মনে আজীবন গেথে থাকে।

সেন্ট গ্রেগরী‘জ হাই স্কুল এন্ড কলেজ পুরান ঢাকার এক ঐতিযবাহী স্কুল। অবশ্য আমি যখন এ স্কুল পড়েছি তখন পর্যন্ত কলেক হয়নি। পরবর্তীতে ৫ম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে অর্থাৎ ২০১৬ সালে কলেজে উত্তীর্ণ হয়। এ স্কুল ১০ বছরে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সেন্ট গ্রেগরী‘জ হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮২ সালে সাধু গ্রেগরী‘র নামানুসারে। মহান এই স্কুল আমার পড়ার সুযোগ হয়েছিল ২০১০ সালে। এরপর দীর্ঘ ১০ বছরের পথচলা। অবশেষে আজ ২০১৯ সালে অবস্থান করছি। আগামী বছর ২০২০ ব্যাচে এসএসসি পরীক্ষার্থী। এই ১০ বছরের কথা বলা যাক।

২০০৮ সাল। তখন সেন্ট গ্রেগরী‘জ হাই স্কুল- এ ভর্তি স্বপ্নের মতো মনে হতো। তখন ভর্তির জন্য পড়ালোখা করছি। স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই স্কুল যেতাম। স্কুল ক্যাম্পাসে বকুল ফুলের গাছ আর বাস্কেটবল খেলার প্রতি এক অন্তরের টান ছিল। প্রায় বিকালে মায়ের সাথে স্কুল ক্যাম্পাসে যেতাম। খুবই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ছিল সেই বিকেলের। তখন বর্তমানের মতো এমন বাস্কেটবল কোর্ট ছিল না। ইংলিশ ভার্সন এর বিল্ডিং এর নীচে বাস্কেটবল কোর্ট ছিল। তবে স্কুলের উন্নয়মূলক কাজে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে। বিকেবেলা গেলে দেখতাম ব্রাদাররা বাস্কেটবল খেলত। আমি বকুলগাছের নিচ থেকে বকুলফুল কুড়াতাম। তা খুব ভালো লাগতো। স্কুলে পড়াকালীন সময়েও বকূলগাছটা ছিল। কিন্ত স্কুলের উন্নয়নের কাজের জন্য গাছটা কেটে ফেলতে হয়েছিল। তখন মন কিছুটা খারাপ হয়ে যায়। এভাবেই স্কুল জীবন অতিবাহিত হতে লাগলো।

২০০৯ সাল। সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স কিন্ডারগার্টেন স্কুলে আপয়াকেজিতে পড়তাম। মা একদিন সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুলের ভর্তি ফরম নিয়ে আসে। তখন থেকেই আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি চান্স পাবই। তারপরও আমার মা বাবা ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ভর্তি ফরম নিয়ে আসে। নির্ধারিত দিনে ব্রাদার রবি পিউরিফকেশন সিএসসি আমাকে কিছু প্রশ্ন করলে আমি তার সঠিক তথ্য দিয়ে আসি। ১১ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা দিয়ে আসি। সেই সময় এখনকার মতো লটারি ছিল না। অবশেষে রেজাল্টে বিখ্যাত এই স্কুলে পড়ার সৌভাগ্য হয়। এতে আমার মা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। তখন থেকেই একজন গ্রেগরিয়ান হিসেবে যাত্রা শুরু হয়।

সেন্ট গ্রেগরী‘জ হাই স্কুলে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় একে যেমন আনন্দ ছিল তেমনি পড়ালোখার আগ্রহ ছিল। গ্রেগরিয়ান লাইফের ১ম দিন স্কুলে আসার সময় মা মন দিয়ে ক্লাশ করতে বললেন। ১ম দিনের ক্লাস খুবই আনন্দদায়ক ছিল। ১ম দিনে আমার সহপাঠী ছিল দুর্জয় ঘোষ: যে এখন আমার অন্যতম প্রিয় বন্ধু। ১ম শ্রেণী শিক্ষিকা ছিলেন আইভী সেন ম্যাম। তিনি অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকদের মতো রাগি ছিলেন না। তিনি গণিত বিষয় পড়াতেন। তিনি ছিলেন আমার অন্যতম প্রিয় শিক্ষিকা।

২০১৪ সাল। ৫ম শ্রেণীতে পিএসসি ( প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট ) পরীক্ষা। পিএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপি এ- ৫ ও ট্যালেণ্টপুলে বৃত্তি পাওয়া ছিল আমার জীরনে সবচেয়ে বড় অর্জন। এছাড়াও ২০১৭ সালের জেএসসি ( জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ) পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপি এ- ৫ ও বৃত্তি পাওয়া ছিল আমার জীবনে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন।

গ্রেগরিয়ান লাইফে ছিল কিছু সাফল্য। স্কুল জীবনের প্রথম থেকেই প্রতিবছর আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। ৩য় শ্রেণীতে বিজ্ঞান মেলায় অনুষ্টিত আর্ট প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে ২য় স্থান অর্জন করি। এছাড়াও সর্বমোট চারবার আর্ট গ্যালারিতে ছবি প্রদর্শিত হয়। এভাবে প্রতিযোগিতা থেকে কিছু পুরস্কার অর্জন করি। স্কুল জীবন অতিবাহিত হয় অনেক হাসি-কান্না আনন্দের মধ্য দিয়ে। অনেকের সাথে হয় বন্ধুত্ব। এসবই জীবনের বড় পাওয়া। অনেক বন্ধুর সাথে হয় আনন্দ, আবার অনেকের সাথে হয় মতবিরোধ হলেও এসবই বন্ধুতের অংশ। স্কুল জীবনে অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হলেও কীছু বন্ধু সাথে রয়েছে বন্ধুওপূর্ণ প্রীতি যেমন- রাহুল রায়, জোর্তিময় গোপ,দুর্জয় আর ও অনেকে। ওরা সকলেই আমাকে অনেক ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করেছে।
২০১৯ সালে। ১০ম শ্রেণি, স্কুল জীবনের শেষ বছর।

এ দশ বছরে স্কুলে রয়েছে অনেক স্মৃতি,অনেক আনন্দ: যা হৃদয়ে বেচে থাকবে আজীবন। স্কুল জীবনে রয়েছে অনেক শিক্ষকের আর্শীবাদ,ভালোবাসা ও প্রেরণা। রয়েছে মা বাবার অক্নান্ত পরিশ্রম: আমাদের পাশে থাকা ও ভালোবাসা। য়ার ফলেই আজ এ অবস্থানে পৌছেছি। তাই বাবা-মা ও শিক্ষকদের জন্য রইল গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান। |

২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে স্কুল জীবন সমাপ্ত হবে। স্কুল জীবনের হাসি-কান্নার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা স্মৃতিগুলো হৃদয়ে বেচে থাকবে আজীবন।