সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গল্প- ‘স্মরণ’

জানালা দিয়ে  দুরন্ত গতিতে আসা মেঘলা দিনের শীতল পবনের স্পর্শ, অন্তর গৃহে পুরনো  স্মৃতির জাগরণ ঘটাল । এখন বর্ষাকাল । গত বছর এরকম একদিন, সকালে স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হতেই বারান্দায় মাইশা আর অনিক এলো ।

মাইশাঃকি রে,এতো দেরি করছিস কেন? তাড়াতাড়ি আয় ।

আমিঃ আসছি,এক মিনিট দাঁড়া  ।

অনিকঃ প্রতিদিন তোর জন্য দেরি হয় । আজ যদি হক স্যারের বেতের বারি খাই তাহলে তোর খবর আছে ।

ওর বলা শেষ করতে না করতেই আমি বেরিয়ে বললামঃ মনে হচ্ছে গিয়ে সব ক্লাস করে মহাভারত শুদ্ধ করে ফেলবি।

 হেঁটে গল্প করতে করতে স্কুলে ঢুকলাম । আজ দেরি হয়নি। ঝালমুড়ি খেতে খেতে ক্লাসে ঢুকলাম । তবে তিন জনের কেউ  পিটিতে যাব না। তাই ক্লাসের ব্যাক বেঞ্চে গিয়ে লুকিয়ে বসলাম । পিটি শুরু না হতেই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হল । তাই আজ পিটি হবে না । হক স্যারের ভয় থেকে বাঁচলাম ।

২য় পিরিয়ডের সময় থেকে কিছুই ভাল লাগছে না  । আকাশটাও মেঘলা । নিজেদের কথা গুলো চিরকুটে লিখে আদান প্রদান করতে লাগলাম । তখনই হৈচৈ পরে গেল । ছুটির  ঘণ্টা পড়লো। আবহাওয়া খারাপ দেখে স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেছে । আমাদের আর পাই কে । ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পরলাম সাথে  মাইশা আর অনিক।

অনিক বললঃ জানিস শফিক কাকুর বাগানের আম গুলো প্রায় শেষ। কয়েকটা  আছে ।

আমিঃচল যাই ।

মাইশাঃ যদি দেখে ফেলে…

অনিকঃপালাবো আর কি ।

আমিঃ ভয় করিস না আমরা আগেও গেছি ধরতে পারে নি। আজও পারবে না ।

এই বলে আমরা  চললাম শফিক কাকুর বাড়ি । দেখে মনে হলো বাড়িতে কেউ নেই । অনিক গাছে উঠতে পটু । কয়েকটা আম পাড়তেই কাকু হাতে লাঠি নিয়ে  দৌঁড়ে বেরিয়ে এলো ।আমরা প্রাণ বাঁচিয়ে এক দৌড়ে নদীর ঘাঠে পৌছালাম ।

হাঁপাতে হাঁপাতে মাইশা বললঃ তোরা যে বললি কিছু হবে না।

আমিঃ  আমরা কি করে জানবো  যে আজ ধরা পরবো ।

অনিকঃ আছে তো এই কটা পোকা ধরা আম। তার জন্য আবার লাঠি।

এভাবে গল্প করতে করতে আমরা  খাচ্ছিলাম । কিছু সময় পরে বৃষ্টি নামলো । ছাতা নেই তাই ভিজতে হল।আমদের বেশ ভালই লাগছিল।  ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরলাম।

আজও বৃষ্টি হচ্ছে । তবে আমরা সবাই গৃহবন্দি  । সাথে আছে শুধু স্মৃতিগুলো। ভিডিও কলে যতই কথা হোক না কেন সামনা সামনি কথা বলার আনন্দ কি আর সেখানে পাওয়া যায়! ,আনলাইনে ক্লাস হলেও আজ মনে পড়ছে স্কুলে কাটানো প্রিয় সেই সময়গুলোর কথা । তবে আশা করছি খুব শীঘ্রই কেটে যাবে অন্ধকার । দেখা হবে চিরচেনা ক্যাম্পাস,বন্ধু্‌, শিক্ষকদের সাথে।