সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গল্প- ’ স্বপ্ন ছোয়া ক্যাম্পাস ‘

গল্পটি শুরু করার আগে, শুনে নাও গল্পটি থেকে কি কি শিখতে পারবে?গল্পটি থেকে তোমাকে শেখাবে স্বপ্ন তোমাকে, কিভাবে নিজেকে পরিচয় দিবে, তোমাকে শেখাবে সময় আর পরিশ্রমের ব্যবহার,তোমাকে শেখাবে একটা ক্যাম্পাস,ক্যাম্পয়াসের মানুষগুলো তোমাকে কতটুকু ভালোবাসায় আগলে রাখবে।
আমি যখন ২০১৭ সালে এস এস সি পাশ হয়ে কলেজ এ ভর্তি হয়।কলেজে প্রথম দিন, অরিয়েন্টেশন ক্লাশ এ গিয়েছিলাম, অবশ্য নতুন ভর্তি তাই, নতুন বন্ধু,নতুন শিক্ষক,নতুন ক্যাম্পাস।সুতরাং, কিছুটা ভয়,কিছুটা লজ্জা,কিছুটা ভালো না লাগা ত থাকবেই অবশ্য। কিন্তু,পরে নিজেকে সামলে নেয়, আর ভাবলাম, যদি নিজের সাহস না হারিয়ে ফেলি তবে,শিক্ষকদের থেকে সম্মান ভালোবাসা পাওয়া যোগ্য হয়ে উঠবে এবং বন্ধুদের থেকে  ভালো-বাসা। আর যদি সাহস হারিয়ে ফেলি তখন শুধুমাত্র চুপচাপ বসে থেকে কিছুই যোগ্য হয়ে উঠব না।তাই,নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচয় হতে হাত বাড়িয়ে দিলাম,আর শিক্ষক দের সামনে গিয়ে পরিচয় হয়েও আসলাম।তারপর, কলেজের ক্লাশ শুরু হয়ে গেলে,আমি প্রতিদিন কলেজ এ যেতাম।কারণ, আমি ভাবতাম কলেজে প্রতিদিন গেলে,একদিকে নতুন বন্ধুদের সাথে , ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে উঠে আর শিক্ষকরাও আমার প্রতি অনেক ভালোবাসত আর খেয়াল রাখত।এইভাবেই, চলতে লাগল।সবার সাথে ভালোভাবে পরিচিত হয়ে উঠলাম আর আর শিক্ষকদের সাথেও ভালো সম্পর্ক তৈরি হল।
যারা প্রতিদিন ক্লাশ এ যেত না তাদের পড়া জমা হতে লাগল আর পরীক্ষার জন্যও তাদের কষ্টকর হতে লাগল আর তার বদলে তারা প্রাইভেট পড়তে শুরু করে।আর আমার কোনো কষ্ট হত না,প্রতিদিন ক্লাশ করে সব সাবজেক্ট বুঝে যেতাম,কোনো পড়াও পরে থাকল না আর পরিক্ষার সময় ও কষ্ট করে বেশি পড়তে হত না,প্রাইভেট  ও পড়তে হত না,শুধুমাত্র রিভাইস দিয়ে গেলেই হত পরীক্ষার জন্য। অবশ্য সময়ের কাজ সময়ে করলে ত সহজ ই হবে তাইনা?এক এক সময় এক এক শিক্ষকের উপদেশ শুনতেও পেতাম, আর শুনে ভালোও লাগত, কেননা যদি কারোর উপদেশ থেকে কিছু শিখতে পারি তাহলে নিজের জন্য খুবি উপকার হয়।অনেকে  ঠিকি উপদেশ শুনে, কিন্তু ৩/৪ ঘন্টার পর সেই উপদেশ ভুলে যায়। আমি ভাবতাম তাহলে এদের শুনে কি উপকার হল,যদি সেই উপদেশ এর মান রাখতে না পারে।তাহলে উপদেশ টি শুনা আর না শুনার মধ্যে পার্থক্য কোথায় রইল।আমি উপদেশ শুনতাম আর উপদেশ অনুযায়ী কাজ ও করতাম আর সফলতাও পেতাম।তোমাদের, কিছু শিক্ষকের উপদেশ এর কথা বলি।
একদিন একজন শিক্ষ বলেছিলেন,লক্ষ্য অভিজ্ঞতা আর পরিশ্রম যদি ঠিক থাকে তবে পৃথিবীর সমস্ত কাজ সহজ হয়।আমিও সেই শিক্ষকের কথা শুনে এগোতে থাকি আর আমি লক্ষ্য ঠিক করি আমাকে এইচ এস সি ভালো পয়েন্ট পেয়ে পাশ করতে হবে তা না হলে ২ টা বছর পড়ে কি পেলাম,কি পেল নিজের মা বাবা, যারা এত কষ্ট করে নিজের সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছে।অভিজ্ঞতা, আমার অভিজ্ঞতা ছিল আমার সব সাবজেক্ট বুঝে পড়া, মুখস্থ করলে কখনো কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারতাম না।আর পরিশ্রম, প্রতিদিন ক্লাশ এ গিয়ে, প্রতিটি ক্লাশ এ গিয়ে মনযোগ সহকারে পড়াশুনা করা,বাড়িতে গিয়ে সেই পাড়াগুলো ছাড়া সেই চাপ্টারে আরো  অতিরিক্ত কিছু পড়া।আর সফলতা মা বাবার খুশি এর চেয়ে সফলতা আর কি হতে পারে,সব সাবজেক্ট এ সকল বিষয়ে বুঝতে পারা আর প্রতিদিন ক্লাশ করার ফল, কখনো আমাকে প্রাইভেট পড়তে হয়নি আর পরীক্ষার সময় ও ভালো ফল পাওয়া।আরেক জন শিক্ষক উপদেশ দিয়েছিল,কখনো কিছু না করে বসে থেক না, নিজেকে সবসময় একটা না একটা কিছু নিয়ে ব্যস্ত রাখ। যেমনঃ পড়ার সময় পড়া,বন্ধুদের সাথে গল্প করা(বন্ধুদের সাথে গল্প করলেও অনেক সময় গল্প করতে করতে অনেক কিছু শিখা যায়, কিছু না হলেও অনেক সময় গল্প করতে করতে অনেক জায়গার নাম  সহ ধারনা পাওয়া যায়।)আর যদি কিছু না করার থাকে মোবাইলে মুভি হলেও দেখ, এমন মুভি দেখ যেখানে শিক্ষনীয় জিনিস আছে।
কিছু হলেও ত শিখা যার।ঐদিনের কথা শুনে আমি সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রাখতাম কিছু না করার থাকলেও যেকোনো বন্ধুদের সাথে গল্প করা শুরু করে দিতাম।আমার প্রত্যেক দিন অবসর সময়ে বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে অনেক কিছু শিখতে পারতাম আর এমন বন্ধুত্ব হয়ে উঠে সবার সাথে,আজও তাদের কে খুবি মিস করি।অবশেষে, একজন শিক্ষক বলেছিলেন,কখনো কোনো কিছুর প্রতি রাগ করিওনা, রাগ তুমাকে কিছু দিবে না, আরও তুমার থেকে অনেক কিছু ছিনিয়ে নিবে,সকল কিছুকে ভালোবেস দেখবে তুমি কিছু হলেও পাবে আর না পেলেও তুমার মনে খুশিটা অনুভূতি হবে।সেই উপদেশ শুনে আমি আজও সে ক্যাম্পাস  আমার মনের মধ্যে গেথে আছে আর সারা জীবন থাকবে।
‌কলেজ জীবনে আমি শুধুমাত্র শিক্ষা গ্রহন করেছি তা না,বনচ ক্যাম্পাসের প্রতি ভালোবাসাই আবদ্ধ হয়েছি,কলেজের সকল মানুষের থেকে স্নেহ, ভালোবাসা পেয়েছি।উপভোগ করেছি অনেক আনন্দ,অংশগ্রহন করেছি খেলাধুলায়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।আমাদের ক্যাম্পাস সম্পর্কে কিছু ধারনা দেয়, আমাদের ক্যম্পাস সবুজ গাছপালায় ঘেরা, মাঠে সবুজ ঘাস।কম্পাসে ঢুকার সময়  দেখতে পায়  সুন্দর করে সাজানো রাস্তা,রাস্তার দুই পাশে বড় বড় সোজা গাছা পালা।আমাদের কলেজের গেইট ছিল চিটাগাং যাওয়ার রাস্তার পাশে।ক্যম্পাসের ভিতরে রয়েছে অনেকগুলো দোকান,বিভিন্ন রকম দোকান।যেমনঃফুচকা দোকান, চায়ের দোকান,লাইব্রেরি ইত্যাদি।আমাদের কলেজে একটি মাঠ,একটি বাস্কেট বল খেলার মাঠ।আমাদের কলেজ মূলত দুই তলা ভবন।আলাদা বিভাগের জন্য আলাদা ভবন,তাছাড়া ল্যাব ও রয়েছে আলাদা করে।আমাদের কলেজের পাশে একটা প্রাইমারি-হাই স্কুল,আমাদের কলেজের বাইরে আরেকটা বড় মাঠ ও রয়েছে।ভবনের পাশাপাশি অনেক গাছ ও রয়েছে।সবকিছু মিলে আমার জন্য আমার ক্যম্পাস অনেক মনোরম ও সুন্দর।
আমি পড়ালেখার পাশাপাশি অনেক মজাও করতাম।ক্লাশ না থাকলে দোকানে বন্ধুদের সাথে দোকানে গিয়ে নাস্তা করে আসতাম।মেয়ে বন্ধুরা অনেক সময় ডাকত ফুচকা খাওয়ার জন্য, আমি যেতাম অনেকে না গেলেও,কারণ একি ক্লাশ এ পড়ি,নিজে ভাই-বোনের মতই, কেনই লজ্জা বা সংকোচ বোধ করব,ক্লাশ না হলে অনেক সময় মাঠে গিয়ে বন্ধুদের সাথে গল্প করতাম আর অনেক সময় ত গান ও করত।আমাদের কলেজ থেকে প্রতি বছর বনভোজন এ যায়।আর স্যাররা নিজেই আমাকেও যাওয়ার জন্য অনুরোধ করত আর বন্ধুরা ত কি বলব যেতেই হবে এমন অবস্থা।খুব ভালো লাগত আমার।আমাকে কলেজে কর্মচারী রা পেলেও ছাড়ত না,অনেক কিছু জিগেস করবে অথবা,আদর করে  কিছু কথাও বলবে।যাইহোক, আমি সবকিছুর পরেও মনে রাখতাম যে কলেজ লাইফে পড়ালেখা প্রতি অবহেলা করাতা একদ উচিত না।কারণ কলেজ এর উপর নিজের ক্যারিয়ার অনেক নির্ভর করে।
‌তাই,আমি কলেজে উঠে বুঝতে পেরেছিলাম,এই সময়ে স্বপ্ন, অভিজ্ঞতা আর পরিশ্রম কভাবে মূল্যবান হয়ে উঠে আমাদের জীবনে।