সেরা গল্প লেখক-২০২০ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গল্প- ‘ মন নিয়ন্ত্রণ ‘

রিমুর মাধ্যমে ঝুমুর সাথে পরিচয় আসুর (আসাদ)।
রিমু আর আসুর মধ্যকার সম্পর্ক একটু গাঢ় রকমের।। মানুষ যাকে বলে বেস্ট ফ্রেন্ড। প্রতিদিনের ন্যয় ঐদিনও কলেজ ক্যম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিল রিমু আর আসু। তবে একটু ব্যতিক্রম। রিমুর সাথে দেখা গেলো আরো একটি মেয়ে। রং বে-রংয়ের জামা কাপড়ে আবৃত মেয়েটির হাত আর চোখ ছাড়া বাকিটা দর্শনে আনা অসম্ভব। যাইহোক, কলেজে ঐদিন বেশিক্ষন থাকা হলো না তাদের । সবাই মিলে রব উঠালো নদী দেখতে যাওয়ার। নদীর পাড়েই মেয়েটির নাম জানতে পারে আসু। শুধু নাম জেনেই ক্ষান্ত হয়নি আসু। নামের প্রশংসা, একটু বাড়তি প্রশংসা তো ছিলই। “ঝুমু, বাহ এতো সুন্দর নাম!  আমি হয়তো প্রথম এতো সুন্দর নাম শুনলাম।” ঐদিন আর কথাবার্তা হলো না তাদের।  হলো না এমন নয়, হয়তো কিছু হয়েছিল, আবার কিছু হয়েছিল নিঃশব্দে । তারপর থেকে তিন জনকেই আড্ডায় দেখা যেতো। খুব ভালো বন্ধুত্ব তাদের। মানুষ তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু কে জানতো আসুর জন্য ঝুমুর মনে অন্যরকম অনুভুতি তৈরী হবে। নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে অন্যরকম অনুভুতি টা কি! উত্তর টা না হয় পাঠকরাই ঠিক করে নিবেন।
ঝুমু আসুর প্রতি অধিক আসক্ত। পরে না চোখের পলকের মতো অবস্থা। আসুর সাথে অন্তরঙ্গা ভাব জমাতে সদা উদগ্রীব। আসুকে কিভাবে অনুভুতি টা বোঝাবে এটাই হয়ে উঠলো ঝুমুর প্রধান ভাবনা।।
রিমুকেও ভালো লাগে না ঝুমুর। মনের ভীতরে রিমু কেন্দ্রীক কিছু হিংসা ছাড়া কিছুই নেই। নিজের পছন্দের মানুষের সাথে অন্য মেয়েদের মেলামেশা কোনো মেয়েই মেনে নিবে না, এটা তো প্রকৃতির নিয়ম। ঝুমুও তার ব্যতিক্রম নয়। সে রিমুকে সড়িয়ে দিয়ে আসুকে নিজের করে নিতে সদা জাগ্রত।
আসুও কম বুদ্ধিমান নয়। ঝুমুর অনুভূতি তাহার বুঝতে একটু দেরি হলেও আহা মরি দেরি হয়নি। প্রথমে ঝুমুকে সরিয়ে রাখতে চাইলেও ঝুমুর অনুভূতির…………………..ধুর! কি বার বার অনুভুতি বলছি!পাঠকগন ঠিক ধরেছেন “ভালোবাসা” ঝুমুর ভালোবাসায় দূরে থাকতে পারে নি আসুও।ঝুমুর প্রতি এখন তার ততটাই ভালোবাসা যতটা ঝুমুর মনে তার জন্য । কিন্তু লাভ হবে কি!!কেউই বলতে পারছে না “ভালোবাসি,ভালোবাসি,ভালোবাসি”।  ঝুমুর স্বপ্ন আসু একগাদা গোলাপ নিয়ে এসে চিৎকার করে বলবে “ভালোবাসি”। আসুও স্বপ্ন দেখে ঝুমু তাকে এসে বলবে ” আসু,আমার দায়িত্বটা তুমি নিবে!?” ভাবনা ভাবনাই থাকে।কিন্তু আকার ইঙ্গিতে মনের কথা প্রকাশ করতে আসু কম পটু নয়।”তোমার চোখ দুটো খুব সুন্দর,আই জাস্ট ক্রাশড” এরকম হাজারো বাক্য জুড়ে দেয়  আসু তাদের প্রতিনিয়তর কথোপকথনে। সে খুবই উদগ্রীব।৷ ঝুমুকে দেখার জন্য প্রবল আকাঙ্কা। অনেকবার মুখ দেখাতে বললেও রাজি হয় নি ঝুমু।কেন রাজি হলোনা ঝুমুই জানে। কেননা বর্তমান প্রেম গুলোয় তো প্রেমিকের এক কথায় প্রেমিকা নির্জনে যেতেও দ্বিমত পোষণ করে না।  তাহলে ঝুমু মুখ কেন দেখায় না? দ্বিধাই হবে।
বন্ধুরা যখন খাবারের দোকানে খেতে যায় ঝুমু কিছু খায় না । প্রশ্ন করলে উত্তর জুড়ে দেয় আসু । একটু আক্ষেপের উত্তর “আমাকে মুখ দেখানো লাগবে তো তাই মুখোশ খোলে না,সেজন্য খায়ও না”। পাঠকগণ নিশ্চয়ই ভেবেছেন প্রেম হয়ে গেছে! না হয় নি এখনো তবে দুরত্ব টা যে কমেছে সেটা ঠিক ধরেছেন। ভালোবাসার অপ্রকাশিত বন্ধন মাত্র তৈরী হলেও বন্ধুরা সেটাকে ফাইজলামির ছলে বিয়েতে নিয়ে ঠেকিয়েছে আসুকে দুলাভাই আর ঝুমুকে ভাবি বলে ক্ষেপাতে বড়ই আনন্দ পায় তারা। বন্ধুদের সাথে এই নিয়ে মনোমালিন্যও কম হয় নি।
দিনটি ছিলো ৯ ই অক্টোবর।  আগের দিন ছিলো আমার জন্মদিন। জন্মদিন পূর্বে আনন্দের হলেও বর্তমানে খুবই চাপের।  জন্মদিন আসার আগে বন্ধুদের খাওয়ানোর ব্যাপার টা আসে। না খাওয়ানো পর্যন্ত মুক্তি পাওয়ার অবকাশ নেই। খাওয়ানোর উদ্দেশ্যেই আসু,রিমু,ঝুমু, আমি সহ আরো একজন যাই একটি রেস্তোরায়। সবাই খেতে যেতে রাজি হলেও ঝুমু রাজি হচ্ছিলো না কোনো ভাবেই। বিভিন্ন বাহানা দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও যেতে দেয়া হয় নি তাকে। কিন্তু সমস্যা হলো খেতেও রাজি হচ্ছিলো না সে,কিন্তু কেনো? এই প্রশ্নের জবাবে আসু চিরন্তনের ন্যায় আজও একই কথা বিবৃত করে ” আমাকে মুখ দেখানো লাগবে তো, তাই খায় না”। কিন্তু ঝুমুও হেরে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে বলতেছিলো “এজন্য নয় । আমি এমনিতেই খাবো না”। তখনি ঘটনার শুরু, আসু বলে উঠলো, ” তুমি খাও।আমি তাকাবো না তোমার দিকে”। অবশেষে ঝুমু খাওয়ার জন্য রাজি হলো। মুখোশ খুলল, খাওয়া শুরু করল। আসুও খাচ্ছিলো কিন্তু তাকালো না একবারো। সে খাবারের দিকে তাকিয়েই খেতে লাগলো। জল খাওয়ার জন্য দুবার সম্মুখে তাকালেও চোখ দুটি ছিলো বন্ধ। এভাবেই বিরাজমান প্রায় আধঘন্টা। ঝুমুর খাওয়ার সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিলো, ঝুমু যাই বলুক না কেন সেও আশা করেছিলো আসু তাকাবে।  সে প্রতীক্ষার শীর্ষেই অবস্থান করছিলো। কিন্তু আসু তাকালোই না। ভাবতেই অবাক লাগছে। যে আসু মুখটা দেখার জন্য এতো পাগল ছিলো,
সে না তাকিয়ে থাকলো কিভাবে! তাহলে এটাকেই কি বলে “মন নিয়ন্ত্রণ”?