সুরক্ষা সামগ্রী থেকে বঞ্চিত নিরাপত্তাকর্মীরা, কমেছে ওভারটাইমের বরাদ্দও

এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ চললেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পায়নি নিরাপত্তাকর্মীরা। এছাড়া করোনার মধ্যেই ওভারটাইমের টাকা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে চার মাস ধরে ওভারটাইমের টাকা তুলছেন না তারা। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নিরাপত্তাকর্মীদের মাঝে। তাদের অভিযোগ, করোনার মাঝে ঝুঁকি নিয়ে শুরু থেকে দায়িত্ব পালন করলেও তারা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হচ্ছেন।

নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গতবছর করোনা মহামারীর প্রকোপ বাড়ায় প্রায় ৬ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আবারও বন্ধ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এর পুরোটাসময় অন্য কেউ দায়িত্ব পালন না করলেও ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোন ধরণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়নি।

এদিকে গত বছর আবুল খায়ের গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রায় ১০০ জনের জন্য পিপিই, মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী অনুদান এলেও সেগুলো এখনও মেডিকেল সেন্টারে ফেলে রাখা হয়েছে। কাউকেই সেগুলো ভাগ করে দেয়া হয়নি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মেডিকেল টিম গঠন হলেও তাদেরকে কোন বরাদ্দ দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বছর সেপ্টেম্বরে এ টিমের পক্ষ থেকে ৪৫ লাখ টাকার একটি চাহিদা দেয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতায় এর কোন অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া করোনার আগে নিরাপত্তাকর্মীদের অভারটাইম গণনা করা হতো মূল বেতনের হারে। এতে প্রতি ঘন্টা ন্যুনতম ৫০ টাকা করে স্কেল অনুযায়ী অভারটাইমের টাকা পেতেন। কিন্তু গত সিন্ডিকেটে সেটিকে প্রায় ৪০ শতাংশ কমানো হয়। ৩০ টাকায় নেমে আসে প্রতি ঘন্টা। এতে করে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে অভারটাইমের টাকা। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

এছাড়া তাদের অভিযোগ, করোনাকালীন সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি বন্ধ ছিলো তখন ওভারটাইম হিসেবে তাদের ডিউটিকে গণনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু পরে ৬ মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা করোনাভাতা প্রদান করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘যত ঈদ যাক, চাঁদ যাক, আমদের কিন্তু ছুটি নাই। এই যে, এখন বন্ধ। ভার্সিটিতে কেউ নাই। কিন্তু আমরা ঠিকই দায়িত্ব পালন করছি। মাস্ক আমরা নিজেরাই কিনি, নিজেরাই ব্যবহার করি। প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কিছুই দেয়া হয়নি। সবক্ষেত্রেই আমরা অবহেলার শিকার হচ্ছি। সবসময় বেতন বাড়ে। অথচ এ করোনার মধ্যেই আমাদের ওভারটাইমের টাকা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে।’

আরেকজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘‘করোনাকালীন ডিউটিকে প্রশাসন বলেছে অভারটাইম হিসেবে ধরবে। কিন্তু ৬ মাসে মাত্র ৮০০০ টাকা দেয়া হয়েছে আমাদের।’’

মেডিকেল টিমের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান খান জানান, আমরা গত বছর একটি চাহিদা দিয়েছিলাম। কিন্তু কোন অর্থ আমরা পাইনি। ক্যাম্পাস তো এখন বন্ধ। নতুন কওে প্রয়োজন হলে তা ক্যাম্পাস খুললে দিব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপত্তারক্ষীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু তাদের অভারটাইম অনেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী সিন্ডিকেটে বিষয়টি সমাধান করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের ওভারটাইম প্রসঙ্গে বলেন, গত সিন্ডিকেটে এটা কমানো হয়েছে। আগে তারা বেসিক অনুযায়ী ওভারটাইম পেতো। কিন্তু ইউজিসির অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে এটাকে ঘন্টা হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতেও ঘন্টা হিসেবে ওভারটাইম দেয়া হয়। এ নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেটে তুলবো।

এছাড়া সুরক্ষা সামগ্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, ১০০ জনের সুরক্ষা সামগ্রী আছে আমাদের কাছে। এগুলো বন্টন করার কথা তবে কেউ দায়িত্ব নিয়ে এগুলো বন্টন করেনি। আমরা দেখি, নিরাপত্তাকর্মীদের মাঝে সেগুলো বন্টন করবো। একটা মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিলো। আগে একটা তারা বরাদ্দ চেয়েছিল। সম্ভবত এর কিছু কেনা হয়েছে।