সাড়ে নয় বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেন ডিএসইতে

    দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ সাড়ে ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। রোববার দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। হঠাৎ করে লেনদেনে এই অস্বাভাবিক গতির পেছনে কারণ হিসেবে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা দেখছেন গ্ল্যাক্সো স্মিথ ক্লাইন- জিএসকের শেয়ার ইউনিলিভার ওভারসিজের কাছে হস্তান্তরকেই।

    গত সাড়ে নয় বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেন দেখলো দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। রোববার শেয়ার বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ব্লক মার্কেটে বিদেশি দুটি কোম্পানির প্রায় ২ হাজার ৪৮০ কোটি টাকার লেনদেন করে।

    এর মধ্যে টানা দরপতনের মধ্যে থাকা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন তাদের ২ হাজার ২২৫ কোটি টাকার শেয়ার হস্তান্তর করে অপেক্ষাকৃত লাভজনক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের কাছে। প্রায় ২২০ কোটি টাকার শেয়ার হস্তান্তরের খবর পাওয়া গেছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনি লিমিটেড-এরও। আর এতেই পুঁজিবাজারের লেনদেন গিয়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।

    অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘পুঁজিবাজারে আজকের যে লেনদেনটি হয়েছে সেটি অস্বাভাবিক লেনদেন নয়। এটা খুবই নিয়ন্ত্রিত একটি লেনদেন। গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন যেহেতু বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে তাই তারা তাদের শেয়ার ট্রান্সফার করেছে ইউনিলিভারের কাছে। এটিই মূলত আজকে বড় লেনদেনের কারণ।’

    এদিকে, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই। তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয় বিনিয়োগকারীদের প্রতি। তবে, পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘ডিএসই যেহেতু নতুন করে গঠিত হয়েছে এই সময়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। তবে সতর্ক থাকা দরকার। যেন কোন অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজকর্ম না চলে সেদিকে নজর রাখতে হবে।’

    রোববার লেনদেন বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি সূচকের অবস্থান। ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ দশমিক ৯৮পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার পয়েন্টে। এদিন ডিএসই’তে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৯১টি প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ১২টি এবং অপরিবর্তীতি রয়েছে ২৩৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর।

    এর আগে ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর ডিএসইতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।