সাড়ে তিনশ’ শয্যার করোনা ইউনিট হচ্ছে বিএসএমএমইউতে

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় যুক্ত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাথমিকভাবে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লক ও বেতার ভবনে সাড়ে তিনশ’ শয্যা নিয়ে এ ইউনিটের যাত্রা শুরু হবে। এর মধ্যে কেবিন ব্লকে আড়াইশ’ ও বেতার ভবনে থাকবে একশ’ শয্যার ব্যবস্থা। আগামী ১০ দিনের মধ্যে করোনা রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোডিভ-১৯ ইউনিট কবে নাগাদ চালু হতে পারে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘প্রস্তুতি চলছে, আগে তৈরি হোক। দিন-ক্ষণ উল্লেখ করার পর যথাসময়ে চালু না হলে সমস্যা। যখন পুরোপুরি প্রস্তুত হবে, তখনই জানিয়ে দেবো।’

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন বলেন, ‘কবে থেকে সেবায় যেতে পারবো, তা এই মুহূর্তে বলা একটু কঠিন। আমরা যদিও ১ জুন থেকে কাজ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে এটা চালু করা। এর মধ্যে না হলে এ মাসের শেষ নাগাদ অবশ্যই চালু হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি—বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লক করোনার জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। সেখানে ২১ বেডের আইসিইউ ইউনিট আছে। আপাতত ১৪টি আইসিইউ বেডসহ আড়াইশ’ শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। সব কেবিন সিস্টেম। এক কেবিনে দুইজন করে রোগী থাকবে। ১০টি ভি আই পি কেবিন থাকবে। চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০টি কেবিন। প্রয়োজন সাপেক্ষে তা বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া ২০টি আইসিইউ বেড এবং স্টেপ ডাউনের জন্য কিছু এইচডিইউ থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এর বাইরে বেতার ভবনে করোনা রোগীদের জন্য একশ’ শয্যা রয়েছে। সব মিলে সাড়ে তিনশর মতো শয্যা নিয়ে আমাদের করোনা ইউনিটের যাত্রা শুরু হবে।’

তবে বেতার ভবনে আইসিইউ সাপোর্ট থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকবে। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার মৌলিক জিনিস-পত্র থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেবিন ব্লকে এর আগে আইসিইউ ও এইচডিইউ ছাড়া অন্যান্য কেবিনে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ছিল না। করোনা ইউনিট চালুর করার অংশ হিসেবে নতুন করে সকল কেবিন সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনে সংযোগ করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, কেবিনে হাইফ্লো অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি ফ্লোরে হাই ফ্লো অক্সিজেন দেওয়ার ২টি মেশিন থাকবে। সব কেবিনেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন থেকে মিনিটে ১৫-২০ লিটার অক্সিজেন দেওয়া যাবে।

বিএসএমএমইউ পরিচালক বলেন, ‘সর্বোচ্চ আধুনিক সেবা নিয়ে সেন্টার অব এক্সিলেন্স জনগণের জন্য প্রস্তুত। আমরা আশা রাখি বিএসএমএমইউ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো।’