সাহেদের শিক্ষাসনদও জাল

প্রতারক সাহেদ করিমের শিক্ষা সনদ জাল। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি এনআইডি সংশোধন করেছেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাহেদের তথ্য সংশোধনে জালিয়াতির অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ইসি কার্যালয়ের জড়িতদের চিহ্নিত করা গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এসব তথ্য জানান।

সিনিয়র সচিব বলেন, সাহেদ বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ দিয়ে এনআইডি সংশোধন করেছেন। কমিশন ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে কিংবা সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সংশোধিত এনআইডি বাতিল করা হবে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ইতোমধ্যে এ ধরনের ঘটনায় অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, অনেকে শাস্তিও পেয়েছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সাহেদের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ছিল সাহেদ করিম। পরবর্তীকালে তিনি এটি সংশোধন করে মোহাম্মদ সাহেদ হয়ে যান। প্রথমে তার জন্ম সাল ছিল ২ জুন ১৯৭৮। পরবর্তীকালে তিনি সেটি ১৯৭৫ সালের ২ জুলাই করে নেন। সংশোধনের সপক্ষে তিনি ও-লেভেলের কাগজপত্র দাখিল করেন। যদিও প্রথমে তিনি সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস দেখিয়েছিলেন। ইসি সচিব বলেন, ইসির মাঠ পর্যায়ের কেউ হয়তো সাহেদের এই কাজে সহায়তা করতে পারে। যে কোনো প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব।

র‌্যাবের চালু করা হটলাইন নম্বরে গত কয়েক দিনে এভাবে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ জানাচ্ছেন। হটলাইনে ফোনকল এবং ই-ইমেইল ছাড়াও কেউ কেউ সরাসরি গিয়েও অভিযোগ জমা দিচ্ছেন। এসব ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত র‌্যাবের কাছে ফোন এসেছে ১৮০টি, ই-মেইলে অভিযোগ এসেছে ৩০টি। সব অভিযোগই প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও পাওনা টাকা পরিশোধ না করা প্রসঙ্গে। বেশ কিছু ই-মেইল এসেছে বিদেশ থেকে। আরও দু-তিন দিন সেবা সংযোগটি চালু রাখবে র‌্যাব।