সাকিবের ৫ উইকেট, বিশাল জয়ে শুরু বাংলাদেশের

বল হাতে রুদ্ররূপে হাজির হলেন সাকিব আল হাসান। তাতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল জিম্বাবুয়ের ইনিংস। হারারেতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৭৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২১ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।

ফলে ১৫৫ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটি শুরু করলো বাংলাদেশ। লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর ঘূর্ণিজাদুতে সাকিব নিয়েছেন ৫ উইকেট।

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেমন দরকার ছিল, তেমন সূচনা পায়নি জিম্বাবুয়ে। টাইগার পেসারদের তোপে শুরুতেই বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।

স্কোরবোর্ডে ১৩ রান উঠতেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে। তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে রানের খাতা খোলার আগেই বোল্ড করে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। কাট করতে গিয়ে লেগস্ট্যাম্প হারান ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামা এই ওপেনার।

এরপর চোধ ধাঁধানো এক ডেলিভারিতে ওয়েসলে মাদভেরের (৭) মিডল স্ট্যাম্প তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন ব্রেন্ডন টেলর আর অভিষিক্ত ডিয়ন মায়ের্স।

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই খেলছিলেন মায়ের্স। কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। এগারতম ওভারে শরিফুল ইসলামকে পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে মোসাদ্দেক হোসেনের সহজ ক্যাচ হয়েছেন এই ব্যাটসম্যান, ২৪ বলে করেন ১৮ রান।

৪৯ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন টেলর আর রেগিস চাকাভা। কিন্তু তাদের চতুর্থ উইকেট জুটিটি ২৯ রানের বেশি যেতে দেননি সাকিব আল হাসান।

প্রথম দুই ওভারে খরুচে (১৭ রান) সাকিব দ্বিতীয় স্পেলে এসেই তুলে নিয়েছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি। জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক টেলর তাকে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৩১ বলে ২৪ করে। সেইসঙ্গে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে দেশের সর্বোচ্চ উইকেটের (২৭০) মালিক হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

এখানেই থামেননি। এরপর জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানদের রীতিমত কাঁদিয়ে ছেড়েছেন সাকিব। একে একে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন রায়ান বার্ল, ব্লেসিং মুজারাবানি এবং প্রতিরোধ গড়া রেগিস চাকাভাকেও।

২১তম ওভারে সাকিবকে সুইপ করতে গিয়ে টেলরের মতোই ক্যাচ দিয়েছেন বার্ল (৬)। পরের ওভারে এসে মুজারবানিকে (২) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। মাঝে আফিফ হোসেনের দুর্দান্ত থ্রোতে রানআউট হন লুক জঙউই (০)।

এরই মধ্যে একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন চাকাভা। শরিফুল ইসলামকে ছক্কা মেরে ফিফটি পূরণ করা এই ব্যাটসম্যানকেও শেষ পর্যন্ত সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন সাকিব। ৫১ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলে চাকাভা ক্যাচ হয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজের। শেষ উইকেটটিও নিয়েছেন সাকিবই, উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন রিচার্ড এনগাভারাকে।

সবমিলিয়ে ৩০ রান খরচায় ৫ উইকেট সাকিবের। চোটের কারণে তিমিসেন মারুমা ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় ২৮.৫ ওভারে জিম্বাবুয়ে অলআউট ১২১ রানেই।

এর আগে চাপের মুখে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন লিটন দাস। ৯ উইকেটে ২৭৬ রানের পুঁজি পায় টাইগাররা।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। যদিও টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানান, টস জিতলে তিনি আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতেন।

কেন আগে বোলিং নিতেন তামিম, তারই যেন প্রমাণ দেন জিম্বাবুয়ের দুই নতুন বলের পেসার। প্রথম দুই ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানি ও টেন্ডাই চাতারার বিপক্ষে সুবিধাই করতে পারেননি তামিম ও লিটন।

বেশ কয়েকটি বলে আউটের সম্ভাবনা জাগান এ দুই পেসার। অল্পের জন্য বেঁচে যান দুই টাইগার ওপেনার। তবে প্রথম দুই ওভার থেকে কোনো রান অবশ্য করতে পারেনি বাংলাদেশ।

তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটি অফস্ট্যাম্পের খানিক বাইরে করেছিলেন মুজারাবানি। এক্সট্রা বাউন্স থাকা ডেলিভারিটি কাট করতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু তার ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে।