সাকিবকে ব্যঙ্গ করে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন, ব্যাড বিহেভিয়ার কিং বলে অখ্যায়িত

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বাজে আচরণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে তার বিগত দিনগুলোতে মাঠে খেলোয়াড়ের বাজে আচরণের সব ঘটনা ও করা হয়েছে সমালোচনা।

ক্রিকইনফো প্রতিবেদনে আলোচনায় ক্রিকেটে ব্যাড বিহেভিয়ার কিং তথা ‘বাজে আচরণের রাজা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। আরও বলা হয়েছে— বিশ্ব বাজে আচরণের কোনো চ্যাম্পিয়নশিপ হয়, তা হলে নিশ্চয়ই সেটি উঠবে সাকিবের হাতে।

‘তবে তার (সাকিব) হাতে ট্রফিটি তুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে ভোঁ দৌড় দিতে হবে। কারণ অবশ্যই তিনি এটিকেও ছুড়ে মারবেন আপনার দিকে।’ সাকিবকে নিয়ে এমন ব্যঙ্গাত্মক উক্তিও করেছে ক্রিক ইনফো।

অবশ্য ওই প্রতিবেদনে শ্রীলংকার তিন ক্রিকেটার কুশল মেন্ডিস, নিরোশান ডিকভেলা ও নিরোশান গুনাথিলাকাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাদের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে বলা হয়েছে— সিগারেটের নেশায় রোববার রাতে জৈব সুরক্ষা বলয় ভেঙে হোটেল থেকে বিনাঅনুমতিতে ইংল্যান্ডের ডারহামের রাস্তায় ঘুরে বেড়ান এই তিন লংকান তারকা। জাতীয় দলের খেলার মাঝে জৈব সুরক্ষা বলয় ভঙ্গের মতো গর্হিত কাজ করে বাজেদের তালিকায় নাম উঠিয়েছেন তারাও। তবে সাকিবের আচরণের কাছে লংকান তারকাদের কাণ্ড কিছুই না বলে মন্তব্য করেছে ক্রিক ইনফো। এরপর ক্রিকইনফো সাকিবের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরেছে।

ক্রিকইনফো লিখেছে— ‘শ্রীলংকার ক্রিকেটারদের জৈব সুরক্ষা বলয় ভঙ্গের কাজটি বাজে আচরণের পাল্লায় খুব ছোট দেখাবে সাকিবের কাণ্ডের কাছে। তিনি জানতেন সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে এবং মিডিয়াও সেখানে নজর রেখেছে। এর পরও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে প্রথমে আউটের আবেদনে সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় স্টাম্পে লাথি মেরেছেন সাকিব। পরে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ করার ঘোষণা দিলে স্টাম্প তুলে মাটিতে আছাড় মেরেছেন।’

তারা লিখেছে— ‘ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন রাখার দায়ে পাওয়া নিষেধাজ্ঞার এখনও দুই বছর হয়নি সাকিবের। এর সঙ্গে রয়েছে তার আগের নানান কীর্তি। যেমন খেলা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি (নিদাহাস ট্রফি), আম্পায়ারের ওপর রাগ দেখানো (বিপিএল), একজন দর্শককে শারীরিক প্রহারসহ আরও অনেক কিছু। যেগুলো সত্যিই দেখার বিষয়।’

উল্লেখ্য, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গত ১১ জুনের ম্যাচটিতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মনঃপুত না হওয়ায় অক্রিকেটীয় আচরণ করেন সাকিব। স্ট্যাম্পে লাথি মেরে আম্পায়ারের দিকে তেড়ে যান। ডাগআউটে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে বাজে আচরণের চেষ্টা করেন সাকিব। সেই ঘটনা দেশসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।