সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনলাইন কিংবা টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস-পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়া হলেও তা সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। এরমধ্যেই চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এতে চলতি বছরও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা না হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছুটি বাড়ানো হয়েছে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত। ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর কারণে ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আটকে গেছে। এই পরীক্ষা কবে হবে তা জানা নেই কারোর। কবে নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে তাও অনিশ্চিত।

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) এবং জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হলে সবাইকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে কি না, তা ২৫ আগস্টের পর জানানো হবে।

সচিব বলেন, ‘আমরা যখনই পরীক্ষা নেব, তা গোপন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। প্রকাশ্যে একটি ঘোষণা দেব। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির অ্যাপ্রুভাল ও অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির মাধ্যমেই ঘোষণা দেওয়া হবে। গুজব ছড়ানোর যৌক্তিকতা নেই।’

অথচ বছরের এই সময়টাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যস্ত থাকেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। চলতি বছর থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা মহামারি ও এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় তা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

জানা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর গত ফেব্রুয়ারিতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে চলতি বছর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নাও শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউজিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, করোনার কারণে নতুন এই ভর্তি পদ্ধতির জন্য গঠন করা কমিটিগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। ফলে চলতি বছর থেকেই সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে চলতি বছর সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব বলেই মনে করছেন অনেকে।

প্রতিবছর এইচএসসি সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের এক মাস পরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। সে হিসেবে এখন পুরোদমে ভর্তি প্রক্রিয়া চলার কথা। কিন্তু এখনও এইচএসসি পরীক্ষাই শুরু করা যায়নি। গত বছর ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টিতে ভর্তি পরীক্ষা হয় স্বতন্ত্রভাবে। বাকি সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এটা আসলেই একটা আনসার্টেইন অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। বিষয়টা এমনিতেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল, এখন তা আরো বেড়ে গেছে। যে উদ্যোগে শুরু করেছিলাম তারমধ্যে মহামারি চলে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘যাদেরকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারা কোনো কাজ করতে পারেনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী মাসে বিষয়টি নিয়ে বসব। বিষয়টি করাটা আসলেই চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও জটিল হয়েছে। সেজন্য কি অবস্থা হবে এখনও বলতে পারছি না। আশা করি, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব, একটা ওয়ার্কআউট করতে পারব।