সবুজ ক্যাম্পাস: বিশ্বসেরার তালিকায় দেশের ২টি বিশ্ববিদ্যালয়

ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটাস ইন্দোনেশিয়া (ইউআই)’ প্রতিবছরই বিশ্বসেরা পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাসের (বিশ্ববিদ্যালয়) তালিকা প্রকাশ করে থাকে। গত ১৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে ‘ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং-২০২১’ শীর্ষক বিশ্বের ৯৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। এ নিয়ে টানা ৫ম বারের মতো শীর্ষস্থান অর্জন করল বিশ্ববিদ্যালয়টি। তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১৭৫তম। এছাড়া বাংলাদেশের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়েছে তালিকায়। সেটির নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি টানা তৃতীয়বারের মতো সবুজ ক্যাম্পাসের স্বীকৃতি পেল। তবে তালিকায় এবারও কোন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আসেনি।

আয়োজকরা জানিয়েছে, এই র‍্যাংকিংয়ের লক্ষ্য হলো বর্তমান পরিস্থিতি এবং সারা বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রিন ক্যাম্পাস এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত নীতিমালার প্রতিফলন সমূহের ফলাফল প্রকাশ করা। প্রতিবছর মোট ছয়টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়।

মানদণ্ডগুলো হলো- অবকাঠামো (১৫ শতাংশ), শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন (২১ শতাংশ) আবর্জনা (১৮ শতাংশ), পানি (১০ শতাংশ), পরিবহন (১৮ শতাংশ) এবং শিক্ষা-গবেষণা (১৮ শতাংশ)।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যাহত প্রচেষ্টার কারণে এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হয়েছে। এই অর্জন শিক্ষার্থী, সমাজ ও পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

র‌্যাংকিংয়ে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বের ৯৫৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৭৫তম, যেখানে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডের ওয়াগেনিংগেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যেও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম।

পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে এ র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়। এইসব ক্ষেত্রে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, স্থাপত্য বিভাগ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও পাবলিক হেলথ বিভাগ বিশেষ অবদান রাখছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অপরদিকে, আইইউবিএটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আইবিএর সাবেক পরিচালক শিক্ষাবিদ ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

পরিবেশ উন্নয়নে ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস নির্মাণে আইইউবিএটির প্রতিষ্ঠাতা সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে গ্রিন ক্যাম্পাস হিসাবে ঘোষণা করেন। এই ধারাবাহিকতায় ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং অনুযায়ী আইইউবিএটি এবারও বাংলাদেশে দ্বিতীয় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

জানা যায়, ২০১০ সালে ৩৫টি দেশের ৯৫টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সর্বপ্রথম ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে বাড়তে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা। ২০২০ সালের র‌্যাংকিংয়ে ৮৪টি দেশের ৯২২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। সর্বশেষ ২০২১ সালে ৮০টি দেশের ৯৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশগ্রহণ করে।