সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরে চলতে হবে। আমাদের লক্ষ্য মৃত্যু হার কমিয়ে আনা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার সবাই করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

রোববার (৩০ আগস্ট) গণভবন থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, তখন এলো করোনাভাইরাস। বাংলাদেশ শুধু নয়, সারা বিশ্বের অর্থনীতি আজ স্থবির। তারপরও আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েছে। আমাদের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে পিছিয়ে না পড়ে, এ জন্য আমরা প্যাকেজ দিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, সারের দাম কমানো হয়েছে। আমাদের সব সহযোগী সংগঠন ধান কেটে কৃষকদের ঘরে তুলে দিয়েছে। করোনাভাইরাসে অন্য দেশে হাহাকার হলেও আমাদের দেশে তা নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম ক্ষমতায় এসে দেখলাম রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য সবকিছুর ভিত তৈরি করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে, দেশের আইন কী হবে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, গরিবের সহায়তা করাসহ সব বিষয়ে তিনি কাজ করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সীমানা নির্ধারণ ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বঙ্গবন্ধু কাজ করেছেন। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, কোনও রিজার্ভ নেই; সেখান থেকে দেশকে নিয়ে তিনি যেভাবে এগিয়ে গেছেন, তা আমাদের জন্য বিস্ময়। তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশসহ সবকিছুর ভিত তৈরি করে দিয়ে গেছেন। জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সদস্য করে গেছেন তিনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদারেরা আগে রাজারবাগে আক্রমণ করে, ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার আগে ৭ মার্চের ভাষণে তিনি গেরিলা যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে পাক বাহিনী নির্যাতন করেছিল, মামলা দিয়েছিল; কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তারা বঙ্গবন্ধুকে অপরাধী প্রমাণ করতে পারিনি। জনমত সব সময় তিনি পক্ষে পেয়েছেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আছে বলেই দেশ পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া; মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, এই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।