সবাইকে দেওয়া হবে করোনার ভ্যাকসিন: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে যারা টিকা নেওয়ার যোগ্য বাংলাদেশে তাদের সবাইকেই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেলে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবির্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষ করোনার টিকা পেয়েছেন। গ্রাম পর্যায়েও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করতেই হবে এমন নয়। শুধু এনআইডি কার্ড নিয়ে এসেই ভ্যাকসিন নিতে পারবে মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও গ্রাম পর্যায়ে মানুষের মধ্যে করোনা পরীক্ষা না করার এক ধরনের বাতিক আছে। তারা অনেকেই মনে করেন টেস্ট করে করোনা পজিটিভ হলে মানুষ তাকে অচ্ছুত মনে করবে। কেউ হয়তো তার সাথে আর মিশবে না। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। বরং নিজের, পরিবারের এবং সবার স্বার্থেই উপসর্গ দেখা দিলে টেস্ট করতে হবে। তাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ থাকে এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মানুষ যাতে সহজে ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে আরও সচেতন হয় এজন্য নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে চাইছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে করোনা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু লকডাউন দিয়ে আমরা এই সংক্রমণ রোধ করতে পারব না। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে। পাশাপাশি টিকা দেওয়ার বিষয়ে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি, এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদে টিকা কেন্দ্র স্থাপন করছি। যেখান থেকে ইউনিয়নের সমস্ত লোকজন এসে টিকা নিতে পারবে। যারা এনআইডি কার্ড নিয়ে আসবে তারাই টিকা দিতে পারবে।

তিনি বলেন, আমরা আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছি। আমরা চাচ্ছি যারা পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলা এবং পুরুষ আছে তারা যেন টিকা কেন্দ্রে এসেই টিকা দিতে পারে। টিকা যখন আমাদের কাছে আরও বেশি আসবে তখন আমরা ওয়ার্ড পর্যায়ে যেতে পারব।

এদিকে, করোনায় মৃত্যু যেন লাফিয়ে বাড়ছে। আর লাগামহীনভাবে ছুটছে করোনা শনাক্তের সংখ্যাও। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না সংক্রমণ। একদিনে মৃতের সংখ্যা ২৫৮ জনে ঠেকেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যু ১৯ হাজার ৭৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৯২৫ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২ জনে।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৪৩৯ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৪১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এর আগে, গতকাল সোমবার (২৬ জুলাই) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া করোনা শনাক্ত হয় ১৫ হাজার ১৯২ জন।