সন্দেশ নিয়ে চবি ছাত্রীর উদ্যোগ

বাঙলা নববর্ষ আর পূজো পার্বণসহ বাঙালির উৎসব আনন্দ জুড়ে থাকে হরেকরকম মিষ্টান্ন। বাড়িতে মেহমান এলে কিংবা কোথাও বেড়াতে গেলে সন্দেশ মিষ্টি ছাড়া যেন চলেই না। বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সন্দেশের নাম। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এ সময়ে চরম কর্মব্যস্ত মানুষগুলো যখন বাঙালি ঘরের তুমুল প্রিয় এ খাবারের নাম ভুলতে বসেছে, ঠিক তখনই সন্দেশ নিয়ে ভিন্নরকম এক উদ্যোগ নিলেন এই দুই বোন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শতাব্দী রায় মনীষা। সন্দেশ তৈরি আর বেকিং নিয়ে আগ্রহ তাঁর ছোটবেলা থেকেই। অনলাইনে এগুলো নিয়ে করেছেনও দু’টি ক্লাস। করোনা ভাইরাসের কারণে যখন ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে ঘরবদ্ধ হয়ে গেল সবাই, তখন সে ভাবল বেকার বসে না থেকে কিছু একটা করি। সেই ভাবনা থেকেই নিয়ে নিলেন চমৎকার এ উদ্যোগ। স্কুল শিক্ষিকা বড়বোন কৃষ্ণকলি রায় মীরাকে নিয়ে শুরু করলেন সন্দেশ বানানোর কাজ।
শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘রসমঞ্জুরী’ নামে একটি পেজ খুলে সন্দেশের অর্ডার নিতে শুরু করেন তারা। তারপর নিজেদের হাতে ঘরে বসে সন্দেশ বানিয়ে পৌঁছে দেন গ্রাহকের ঠিকানায়। প্রথমদিকে কম সাড়া পেলেও দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সন্দেশ নিয়ে দুই বোনের এ উদ্যোগ।
অর্ডার বাড়তে থাকার সাথে সাথে তারা বাড়িয়েছেন সন্দেশের আইটেমও। বর্তমানে তাদের ‘রসমঞ্জুরী’ পেজে পাওয়া যাচ্ছে ছানার সন্দেশ, ক্ষীরের সন্দেশ, নারকেলের সন্দেশ এবং রসমালাই। তবে ছানার ছানার সন্দেশের চাহিদাই বেশি।
মনিষা এমন উদ্যোগের প্রেরণা পেয়েছেন মায়ের কাছেই। তিনি বলেন,ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আমাদের মা-মাসিরা খুব ভালো সন্দেশ বানায়। চাইলে তাঁদের কাছে শিখে আমরাও কিছু একটা করতে পারি। ওই কথাতে বসে ফেসবুকে ‘রসমঞ্জুরী’ নামে পেজ খুলে একটা পোস্ট দিই। পরদিনই একটা অর্ডার পাই। সন্দেশ ডেলিভারির পর খুব ভাল একটা রিভিউও পাই। এতে আমাদের আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। আসলে আমাদের দুইবোনেরই সন্দেশ বানাতে ভালো লাগে। কেউ খেয়ে প্রশংসা করলে সেটাই আমাদের বড় পাওয়া।
‌আর মনিষার বড়বোন কৃষ্ণকলি রায় মীরা বলেন, আমাদের দুইজনেরই অনেকদিনের ইচ্ছে এরকম কিছু একটা করার। একবছর আগে আমাদের এটা নিয়েও কথা হয়েছিল। কিন্তু তখন তা ওই আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, শুরু করা হয়নি। এইবার লকডাউনের কারণে অনেকদিন বাড়িতে। তাই আগ্রহ নিয়ে সন্দেশ তৈরির কাজ শুরু করলাম। সন্দেশ বাঙালির ঐতিহ্য। বর্তমান কর্মব্যস্ততার ভীড়ে অনেকে হয়তো সন্দেশ বানানোর রীতি ধরে রাখতে পারেনি। আমাদের এক গ্রাহক তো বলেই ফেলছিলেন, সন্দেশ যে ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে, এটা আমার মেয়েরা জানেই না।
সন্দেশ নিয়ে দুইবোনের এমন উদ্যোগে পরিবারের পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত তাদের বন্ধুরাও। মনীষার বন্ধু ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসাইন বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এরকম উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। মনীষার কাজগুলো ফেসবুকে দেখি। খুব ভাল লাগে। ওকে দেখে অনেক মেয়ে উৎসাহ পাবে। মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হওয়া খুবই জরুরী।