শিল্পার স্বামীর পর্নো ব্যবসার জাল কলকাতা পর্যন্ত ছড়ানো

রাজ কুন্দ্রার পর্নো ব্যবসার জাল কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের শহরতলি পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। পুলিশ কলকাতার সঙ্গে রাজের এই র‍্যাকেটের যোগসাজশ খুঁজে পেয়েছে। পুলিশি তদন্তে ধরা পড়েছে, কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের শহরতলি থেকে ভিডিও বানিয়ে রাজকে পাঠানো হতো।

ভারতের এক শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার কলকাতার নিউটাউন থেকে এক মডেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে যে মডেলিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যুবতী ও নারীদের ভিডিও বানানো হতো। আর এই ভিডিওগুলো রাজ কুন্দ্রার ওয়েবসাইটে পাঠানো হতো।

খবর হয় যে কলকাতা ও শহরতলিগুলোর বুকে পর্নোগ্রাফি র‍্যাকেট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর জালে জড়িয়ে পড়ছেন অসংখ্য তরুণী। বিদেশি ওটিটিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে বলে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও বানানো হয়। আর এই সবকিছু পর্নো সাইটে আপলোড করা হয়।

তাঁদের প্রাণের হুমকি দিয়ে এসব ছবি এবং ভিডিও বানানো হয় বলে অভিযোগ। প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত এক নারী এ ব্যাপারে নিউটাউন পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করেছেন। ওই নারীর অভিযোগ, তাঁকে মডেলিংয়ে সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। আর সেই সুযোগে তাঁর ভিডিও তোলা হয়। পরে এই ভিডিওর ভিত্তিতে নারীটিকে ব্ল্যাকমেল করে তাঁর অশ্লীল ভিডিও বানানো হয়।

আর এই ভিডিও পর্নো ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। নারীটির অভিযোগ, রাজ কুন্দ্রার ওয়েবসাইটে এসব ভিডিও পোস্ট করা হয়। সোদপুরের এক নারীও এই পর্নোগ্রাফি জালে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তারা রাজ কুন্দ্রার আরও দুই-তিনটি অ্যাপের লিংক তদন্ত করছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ, রাজ তাঁর কোম্পানি ‘ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ’–এর মাধ্যমে অশ্লীল অ্যাপ ‘হটশটস’ চালাতেন।

ফেব্রুয়ারিতে রাজের বিরুদ্ধে অশ্লীল ব্যবসা করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ রাজকে জেরার আগে এ–সম্পর্কিত সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছিল। এরপর ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায়। প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত রাজকে ১৪ দিন জেলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।