শিক্ষা কমিশন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরি হচ্ছে

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’র আলোকে ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠনের কাজ শুরু করেছে সরকার। শিক্ষক নিয়োগসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এ কমিশন গঠন করা হচ্ছে। এর আইনগত কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিশনের আইনগত কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ‘জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে এই কমিশন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরির জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে কমিশন গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কমিটির সভা আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা ও আইন শাখার অতিরিক্ত সচিব খালেদা আক্তার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমরা একটি কমিশন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরির কাজ করছি। মন্ত্রণালয় কমিশনের আইনগত কাঠামো তৈরির জন্য কমিটিটি গঠন করেছে। আমরা কাজ করছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি সভাও করেছি।

কমিশনের কাজেও আওতায় কি কি আসছে তা জানতে চাইল তিনি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, এ কমিশন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক দিক দেখবে। এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে, আইনগত কাঠামো গঠন হলে বিষয়টি বলা যাবে।

কমিশন শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব পাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিশনের দায়িত্ব বা কাজের ধারা কি হবে সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। কমিটি আইনগত কাঠামো তৈরি করে তা জমা দেবে। আমরা সে কাজটিই করছি।

এর আগে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে কমিশন গঠনে আইনের খসড়া তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএকে। এনটিআরসিএ খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। খসড়া তৈরি সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কমিটি গঠিত হবার পর শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশ করার দায়িত্ব আর বিদ্যমান এনটিআরসিএর হাতে থাকবে না। কমিশন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেবে।

জানা গেছে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আদলে স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এনটিআরসিএ) বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তখন সব ধরনের শিক্ষক নিয়োগ দেবে জাতীয় শিক্ষা কমিশন। সে রকম পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। কমিশনের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রার্থীরা পরীক্ষা দেবেন ও সরাসরি নিয়োগ পাবেন। মেধাতালিকা বা সুপারিশ করার মত প্রক্রিয়া থাকবে না। একই পদ্ধতিতে সম্প্রতি পিএসসি ননক্যাাডারে বিভিন্ন সরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ দেয় এনটিআরসিএ।

আগে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এক সময় নৈরাজ্য পরিস্থিতি ছিল। স্কুল কমিটি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীদের চাপে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হতো। এ নৈরাজ্য বন্ধ করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠন করা হয়। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এনটিআসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রাক-যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি পরীক্ষা নিয়ে সনদ দেয়া শুরু হয়। সেই সনদের পরও নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে হতো। কিন্তু ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাই হচ্ছে।