শিক্ষা অফিসে ঘুরতে হবে না প্রাথমিক শিক্ষকদের, ছুটিও অনলাইনে

ঢাকা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা দফতর ও প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব আইডি খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিভাগীয় কার্যালয় ইতোমধ্যে ডিজিটাল করা হয়েছে। বিভাগের প্রতি জেলা ও উপজেলা সব অফিস ডিজিটাল করা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব ইমেইল আইডি খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের সহজে ও তাৎক্ষণিক সেবা পৌঁছাতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসে ঘুরে যেনও শিক্ষকদের কোনও সেবা বা সরকারি আদেশ-নির্দেশনা নিতে না হয়, কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দফতরের সব কার্যক্রমে ই-নথি ব্যবস্থাপনা শুরু করা হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে হার্ড কপিতে স্বাক্ষর জরুরি সেসব ক্ষেত্র ছাড়া সব ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ই-নথি ব্যবস্থা চালু করা হবে।

ইতোমধ্যেই ঢাকা বিভাগের সকল বিদ্যালয়ের নিজস্ব ইমেইল খুলতে গত ২ জুন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ইমেইল খোলা ও সব তথ্য সংরক্ষণ করতে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে নির্ধারিত ছকে জেলার নাম, উপজেলার/থানার নাম, ক্লাস্টারের নাম, বিদ্যালয়ের নাম, প্রধান শিক্ষকের নাম ও মোবাইল নম্বর, বিদ্যালয়ের নামে ইমেইল আইডি সংরক্ষণ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে জরুরিভিত্তিতে পাঠাতে বলা হয়েছে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের। আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের আগামী মঙ্গলবারের (১৫ জুন) জুনের মধ্যে এসব তথ্য ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ উপ-পরিচালক মো. ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের ছুটির জন্য শিক্ষা অফিসারদের পেছনে ঘুরতে হবে না। অনলাইনে ছুটির ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি বিভিন্ন আদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইমেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে।’

জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা রিপোর্টস সেন্টারসহ বিভিন্ন দফতরে শিক্ষকদের ছোট কাজেও হয়রানির শিকার হতে হয়। অফিস আদেশসহ সরকারি চিঠি সংগ্রহ করতেও ধরনা দিতে হয় শিক্ষকদের। অন্যদিকে হার্ড কপির ফাইল আটকে থাকে বিভিন্ন অফিসে। এসব কারণে সব অফিস কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।