শিক্ষার্থীদের ফের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানালো সরকার

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফের করোনা টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (১৭ মে) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছেলে-মেয়েদের টিকা দেওয়া গেলে তাড়াতাড়ি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সে সময়ে আগামী ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) খোলার পূর্বনির্ধারিত তারিখ ছিল। আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ২৪ মে। তার আগে ১৭ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ফের আরেকদফায় ছুটি বাড়িয়ে আগামী ২৯ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর আগে মার্চের শুরুর দিকে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, আগামী ১৭ মের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের আগে টিকা দেওয়া হবে। তারপর টিকা যত আসতে থাকবে পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া বিষয়ে তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, স্কুল-কলেজের বাচ্চা, তারা তো ১৮ বছরের নিচে, তাদের তো টিকা দেওয়ার নিয়ম নেই।

তবে গত এপ্রিল থেকে দেশের করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সারা দেশে চলছে বিধিনিষেধ। সর্বশেষ এই বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ২৯ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আজ সোমবার (১৭ মে) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছেলেমেয়েদের টিকা দেওয়া গেলে তাড়াতাড়ি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

হলগুলো সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গভর্নমেন্ট ইন্সট্রাকশন দিয়ে দিয়েছে, ইউনিভার্সিটি বা কলেজের যে হোস্টেলগুলো আছে সেগুলোতে অলরেডি ৪০টার মতো রিপেয়ার শুরু হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব কাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে বলেও জানান সচিব।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শুরু হয় মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক। ভার্চুয়াল বৈঠকে গণভবন থেকে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সচিবালয় থেকে যুক্ত ছিলেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা।