শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা হবে আনন্দদায়ক: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের মুখস্ত জ্ঞানের বাইরে এনে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এজন্য শ্রেণি মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যবস্থা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিখনফল যাচাইয়ে করোনার পরও অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতি চালু রাখতে চায় সরকার।

ধারাবাহিক মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা ও মূল্যায়নে সংস্কার করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কেন্দ্র নামের একটি সংস্থাও গঠন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, এই বিষয়ে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছি। শিগগিরই খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

এদিকে অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতি সব সময়ের জন্য চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফারুক।

তিনি বলেন, করোনার পরও অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতি চালু থাকবে। আমরা দেখেছি এটি একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। মুখস্ত বা হুবহু পাঠ্যবই থেকে লিখে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি না করে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চিন্তা-ভাবনা, কল্পনাশক্তি, অনুধাবন ক্ষমতা ও স্বকীয়তা দক্ষতাকেই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সনদ ও মুখস্ত-নির্ভর পরীক্ষা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি মূল্যায়নের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে পরীক্ষা ব্যবস্থা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হবে। করোনার কারণে কারিকুলাম পরিমার্জন পিছিয়ে গেলেও মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের মাঠ পর্যায়ের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নেরই একটি নমুনা হলো অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতি।

গতানুগতিক সনদ ও পরীক্ষা নির্ভরতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ধারাবাহিক মূল্যায়নের পদ্ধতিগুলোতেই যেতে চাচ্ছি। পরীক্ষাভীতি, মানসিক ও শারীরিক চাপ চাই না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা হবে আনন্দদায়ক। পরীক্ষায় পাসে জিপিএ বেশি পাওয়ার চাপ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের যার যে ধরনের প্রতিভা রয়েছে সেটি বিকশিত করতে এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করে দেয়া হবে। জিপিএ বেশি পাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বের করে আনা হবে। সেজন্য নতুন ধরনের পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হচ্ছে।