শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনই খুলছে না: শিক্ষা উপমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ হারের কারণে সরকার এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে না। তবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

গতকাল সোমবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর ও ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে অ্যাজুলের এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হওয়ার পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ওই বিবৃতিতে প্রজন্মগত বিপর্যয় এড়াতে নিরাপদে স্কুলগুলো খুলে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব সংস্থা দুটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার খুলতে চায়। তবে, করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ হারের কারণে আমরা এখনই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবার খুলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার খুলে দেওয়া যেতে পারে সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলগুলো আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সরকার স্কুলগুলো আবার খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে আছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে মাধ্যমিকের প্রায় ৬৫ শতাংশ ও প্রাথমিকেরও কিছু শিক্ষককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, শিগগিরই ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষককে টিকা দেওয়া হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আবাসিক শিক্ষার্থীরা ভ্যাকসিন পাচ্ছেন। এটি আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করার পক্ষে একটি বড় ব্যবস্থা।’

তবে, এখনো ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

গতকাল ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর ১৮ মাস পেরিয়ে গেছে এবং লাখো শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত, বিশ্বের ১৯টি দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ আছে। এর ফলে ১৫ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। বন্ধের ক্ষেত্রে স্কুলগুলো সবার শেষে এবং সেগুলো আবার খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকা উচিত।

বাংলাদেশে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এতে করে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার ৩০ মার্চ সব স্কুল ও কলেজ পর্যায়ক্রমে আবার খুলে দেওয়া ঘোষণা দেয়। কিন্তু, পরবর্তীতে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বাড়লে ২৩ মে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পরে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে থাকলে সরকার ৩১ জুলাই পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে।