শিক্ষকদের কর্মসূচি প্রত্যাহার, শুরু হচ্ছে অনলাইন ক্লাস

প্রায় ২০ দিন পর আগামীকাল সোমাবার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) আবারও অনলাইন ক্লাস শুরু হচ্ছে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

কমসূচি ঘোষনার ১৮ দিন পর গত ২৪ এপ্রিল রিজেন্ট বোর্ডের সভায় শিক্ষকদের প্রাপ্যতার তারিখ থেকে আপগ্রেডেশন নিশ্চিত হওয়ায় পুনরায় একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতি। আজ রবিবার সমিতির সভাপতি ড. মো. কামরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবু সালেহ সাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জানান, গত ২৪/০৪/২০২১ ইং তারিখে উপাচার্য মহোদয় রিজেন্ট বোর্ড সভা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন নিশ্চিত করেছেন এবং প্রাপ্যতার তারিখ থেকে আপগ্রেডেশনের বিষয়টি কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করার বিষয়ে শিক্ষক সমিতিকে অবহিত করেছেন এবং দ্রুত আরও একটি রিজেন্ট বোর্ড করে প্রাপ্যতার তারিখ থেকে আপগ্রেডেশন সম্পর্কিত নীতিগত সিদ্ধান্তটিকে কার্যকর করার বিষয়ে আস্বস্ত করেছেন।

‘‘পাশাপাশি অতি দ্রুত শিক্ষা ছুটির বিপরীতে যোগদানকৃত শিক্ষকদের স্থায়ীকরণের বিষয়টি সমাধানেরও আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি। উপাচার্যের এসকল আশ্বাসের উপর ভিত্তি করে শিক্ষক সমিতির পূর্বঘোষিত কর্মসূচী প্রত্যাহার করা হয়েছে।’’

এছাড়া বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আগামী ২৬/০৪/২০২১ তারিখ থেকে শিক্ষকবৃন্দকে সকল একাডেমিক কার্যক্রম যথারীতি শুরু করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে।

এদিকে পুনরায় অনলাইন ক্লাস শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী শীষ মোহম্মদ তানিম বলেন, আমাদের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের ২য় সেমিস্টারের ক্লাস দ্রুত শেষ করতে স্যাররা উদ্যোগ নেবেন এটাই কাম্য। আশা করি ভবিষ্যৎ এ আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ নিজেদের যেকোন আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার পূর্বে শিক্ষার্থীদের যেন ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন যাবৎ রিজেন্ট বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া, উপাচার্য নিয়োগে সময়ক্ষেপণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় প্রায় দুই বছর যাবৎ পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষকবৃন্দ।