যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় স্কুল সভাপতির নাম, ব্যাখ্যা চেয়েছে শিক্ষাবোর্ড

রাজধানীর হাজারিবাগস্থ মুকুলিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কে. জি. করিমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় এবং সরকার বনাম আব্দুল কাদের মোল্লা মামলায়ও তার নাম রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কর্মচারীরা।

চলতি মাসের ১০ তারিখে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড বরাবর তারা লিখিত অভিযোগ করলে সভাপতির কাছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বোর্ড থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে সভাপতি কে. জি. করিমের কাছে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। ওই পত্রের কেন সভাপতির পথ থেকে অপসারণ/বাতিল করা হবে না- মর্মে পত্র ইস্যুর তারিখ হতে ৭ দিনরে মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখা প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। পত্রের অনুলিপি শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।

সভাপতি কে. জি. করিম রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী কাজে জড়িত ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা। এসবের প্রেক্ষিতে শিক্ষাবোর্ড বলছে-

১.
আপনি বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান যেমন ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরসহ বিদ্যালয়ের কোন অনুষ্ঠানে যােগদান করেন না। বিদ্যালয় ফান্ডে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকা সত্ত্বেও এই করোনাকালীন সময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন অর্ধেক করা এবং বর্তমানের শিক্ষকদের এই অর্ধেক বেতনও দিচ্ছেন না এবং জোর করে শিক্ষক ছাটাইয়ের প্রচেষ্টা চলাচ্ছেন।

২. বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সময়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও মাননীয় এটর্নী জেনারেলসহ দে বরেণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নানান অশোভন কথাবার্তা বলেছেন।

৩. প্রতিমাসে শিক্ষকদের থেকে ১০ হাজার টাকা প্রদায় না হলে বেতন বিলে সাক্ষর
না করা এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে সে টাকা বন্ধ করে দেয়াতে আপনি বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানি করছনে।

৪. ষাটোর্ধ্ব মৃত আফজাল মিয়া (নৈশপ্রহরী)-কে আপনি শিক্ষকদের সভায় সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়েছেন এবং অফিস সহকারী আব্দুর রশিদকে জুতা তুলে মারতে চেয়েছেন।

৫. আপনার একক সিদ্ধান্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্কুল পরিচালনা করছেন এবং ২০০২ সাল থেকে আপনি স্বেচ্ছাচারিতা করে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়া শিক্ষকদের এমপিও এরিয়ার টাকা তাদের না দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়া শিক্ষকদের এমপিওর টাকা তাদের না দিয়ে বিদ্যালয় ফান্ডে জমা দিতে বাধ্য করেছেন।

এ অবস্থায় উল্লিখিত কারণে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পথ থেকে কেন অপসারণ/বাতিল করা হবে না- মর্মে পত্র ইস্যুর তারিখ হতে ৭ দিনরে মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখা প্রদান করতে বলেছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড।

এ ব্যাপারে আজ বুধবার রাতে মুকুলিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাহিদা পারভীন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম-অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষাবোর্ড অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে বোর্ড থেকে কোন চিঠি আমরা পায়নি।

সভাপতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ কতটুকু সত্য-এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এরকম বিষয়টি আমরাও শুনেছি।