মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র কোটার শিক্ষার্থীদের তালিকা ইউজিসিতে পাঠানোর নির্দেশ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র কোটায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে আইনে বর্ণিত নিয়মের ব্যত্যয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দিল ইউজিসি। গত ৯ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে ভর্তীকৃত পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৬ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ আসন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ৩ শতাংশ আসন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। এসব শিক্ষার্থীকে টিউশন ও অন্যান্য ফি ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ দিতে হবে। প্রতিবছর অধ্যয়নরত এসব শিক্ষার্থীর তালিকা কমিশনে দাখিল করতে হবে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, কমিশন লক্ষ করছে, বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ওই ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে না এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সুযোগ দিচ্ছে, যা আইনের চরম ব্যত্যয়ের শামিল। বিনা বেতনে পড়ানোর ক্ষেত্রে আইন না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউজিসি।

প্রসঙ্গত, ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ৯(৪) ধারায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবীদের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় এই আইনের লঙ্ঘন করছেন।

ইউজিসি বলছে, অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা ইউজিসির এই আইন মানছেন না। তারা নিজেদের মতো করে শর্ত জুড়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করছেন। ফলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুনরায় ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।