মানুষ থেকে প্রাণীতে গেলে করোনার নতুন ধরনের ঝুঁকি বাড়ে

মানুষ থেকে প্রাণীর দেহে করোনার সংক্রমণের মধ্য দিয়ে ভাইরাসটির নতুন নতুন ধরন তৈরির ঝুঁকি বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর গবেষক দল এ দাবি করেছে। খবর এএনআই-এর।

সম্প্রতি ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস–এর সাময়িকী ‘পিএনএএস’-এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বিড়াল, কুকুর, নকুল ও ধেড়ে ইঁদুর জাতীয় প্রাণীকে সংক্রমিত করার পর করোনার রূপান্তরিত ধরনগুলো কেমন হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকেরা।

বিশ্বে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী, চিড়িয়াখানার প্রাণী ও পোষা প্রাণীর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে দেখা যায়, এক প্রজাতির প্রাণী থেকে অন্য প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বেশির ভাগ ভাইরাসের ক্ষেত্রে এভাবে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে ছড়ানোর ঘটনা বিরল। তবে কোভিড-১৯ বা সার্স কভ-২ ভাইরাস এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। মুখ্য গবেষক ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্য প্রাণীর রোগসংক্রান্ত বিশ্লেষক এরিক গানি জানান, মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর সংস্পর্শে আসে। আর এর মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীকে সংক্রমিত করার সুযোগ পেয়ে যায় ভাইরাসটি। গবেষক লরা বাশর জানান, সাধারণত দেখা যায় ভাইরাসগুলো এক প্রজাতির প্রাণী থেকে অন্য প্রজাতিতে ছড়াতে পারে না। সুনির্দিষ্ট প্রজাতির মধ্যে তাদের সংক্রমণ সীমিত থাকে। কিন্তু সার্স-কভ-২ ভাইরাসের বিস্তৃত প্রজাতিকে আক্রান্ত করার সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে সার্স কভ-২ ভাইরাসের নতুন নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাসটির বিবর্তন নিয়ে গবেষণা চলছে। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির সিউ ভান্দেউদ পরীক্ষাগারেও এ নিয়ে চালানো হয় গবেষণা। প্রাণীর শরীরে ভাইরাসটির রূপান্তর নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণার জন্য উপকরণ সরবরাহ করতে মানবদেহ থেকে সার্স কভ-২ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর সেটিকে পরীক্ষাগারে রেখে এর বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষকেরা দেখতে পান, ভাইরাসের ওই নমুনাটি বেশ কয়েকবার রূপান্তরিত হয়েছে। এরপর ভাইরাসের সে নমুনাকে চারটি পোষা প্রাণী প্রজাতির সংস্পর্শে আনা হয়। ওই প্রাণীগুলো সংক্রমিত হওয়ার পর তাদের নাক থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকেরা।

গবেষক গানি জানান, প্রাণীদের ক্ষেত্রে দেখা গেল করোনার ধরনগুলো শুরুতে মানবদেহে যেমন আচরণ করছিল তেমন অবস্থায় ফিরে গেছে। অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে লালন করা ওই ভাইরাসের ধরনগুলো নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। পরীক্ষাগারে ভাইরাসের যত রূপান্তর হয়েছে, তা সব প্রাণীর শরীরে স্থানান্তরিত হয়নি। এরপরও দেখা যায়, বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে প্রবেশের পর ভাইরাস আরও রূপান্তরিত হয়েছে।

গবেষক বোস্কো লোথ একে মানবদেহে করোনার নতুন ধরন সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গেই তুলনা করেছেন। তিনি জানান, যেসব মানুষের শরীর সার্স কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ফেলে, তাদের শরীরে ভাইরাসটির রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি।

এ গবেষণার কাজে যে নমুনা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০২০ সালের শুরুর দিকে। গবেষকেরা দেখতে পান তখন থেকে শুরু করে সার্স কভ-২–এর বিভিন্ন ধরন তৈরি হয়েছে।

বন্য প্রাণী ও পোষা বিড়ালের মধ্যে রোগের সংক্রমণ–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে সার্স কভ-২–এর জিনোম নিয়ে গবেষণা করেন তাঁরা।