মহিলা কোটায় পুরুষ প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে চায় এনটিআরসিএ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৩২৫টি পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই পদগুলোর মধ্যে ৬ হাজার ৭৭৭টি মহিলা কোটায় হওয়ায় বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক সংকট দূর করা সম্ভব হেবে না বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। এই অবস্থায় মহিলা কোটায় পুরুষ প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে চায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৫৪ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি মহিলা কোটা পদে মহিলা প্রার্থী না থাকায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদ শূনই রয়ে যায়। এই পদগুলো পূরণে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে এনটিআরসিএ।

তবে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির প্রায় অর্ধেক পদ মহিলা কোটার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এনটিআরসিএ বলছে, মহিলা কোটায় যে পদগুলো রয়েছে সেগুলো বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে পূরণ নাও হতে পারে। এই অবস্থায় ওই পদগুলো পুরুষ প্রার্থীর মাধ্যমে পূরণ করতে চায় তারা। তবে মহিলা কোটায় পুরুষ প্রার্থীদের সুপারিশ করা হলে এমপিও হবে না। এই অবস্থায় দোটানায় রয়েছে সংস্থাটি। এজন্য বিষয়টি সমাধানে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাইছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে মহিলা কোটায় পুরুষ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। এখানে আমাদের কিছু নেই।

এদিকে এনটিআরসিএ’র একটি ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে মহিলা কোটার ৮০ শতাংশ পদ ফাঁকা থাকলে তারা এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করবেন। মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে মহিলা কোটা পূরণ হবে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মহিলা কোটায় কতগুলো পদ ফাঁকা থাকে সেটি দেখে আমরা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় বসব।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই শূন্যপদ পূরণ হোক। আমরা মহিলা কোটায় পুরুষ প্রার্থীদের সুপারিশ করতে চাই। তবে তাদের এমপিও নিয়ে সমস্যা হবে। সেজন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ মার্চ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের বিপরীতে ৪ এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ১-১২তম নিবন্ধনের রিটকারীদের জন্য দুই হাজার ২০০টি পদ সংরক্ষণ করে ৫১ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয় এনটিআরসিএ।

তবে ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি মহিলা কোটা পদে মহিলা প্রার্থী না থাকায় মোট ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে বাকি রেখে ৩৮ হাজার ২৮৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৭৩ জনকে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেয়া হয়েছে। আর ১৫ হাজার ৩২৫টি পদের বিপরীতে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে এনটিআরসিএ।