মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ১৩ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ১৩ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনলাইন মাধ্যমে কিছু ক্লাস চললেও স্কুল খোলা ও পরীক্ষা বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি শিক্ষা প্রশাসন। এমতাবস্থায় প্রশাসন থেকে পরীক্ষার জন্য ফি আদায়ের নির্দেশনা না থাকলেও কয়েকটি বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষার ফরম ফিলাপের নামে টাকা আদায়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজধানীর মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানের পিইসি পরীক্ষার জন্য এক হাজার টাকা করে দিতে বলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো অভিভাবক টাকা পরিশোধের রশিদ চাইলেও দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর মিরপুর ২নং সেকশনে অবস্থিত সেন্ট তেরিজা স্কুলেরও কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ অষ্টম শ্রেণির নিবন্ধন এবং ফরম ফিলাপের জন্য দুই হাজার দুইশো টাকা করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া খান রিজন বলেন, শুধু পিইসি পরীক্ষার জন্য এক হাজার টাকা নেওয়া হয়নি। পুরো বছরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরীক্ষা, শিট বিতরণ এবং পরীক্ষার ফরমফিলাপের জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

পিইসি পরীক্ষার ফি আদায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয় অনুবিভাগ) রতন চন্দ্র পন্ডিত আমাদের সময়কে বলেন, এখনতো মাত্র এপ্রিল মাস। এখনো পরীক্ষার অনেক সময় বাকি। আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে আছি, যখন পিইসি পরীক্ষা কখন কীভাবে নেওয়া যাবে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছি না। এখন পিইসি পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়া অযৌক্তিক। এটি স্কুল কর্তৃপক্ষের অতিউৎসাহ ছাড়া কিছুই না। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, সরকার এখনো জেএসসি পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেনি। এমনকি এই পরীক্ষার ফরমফিলাপের জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়নি। বোর্ড সিদ্ধান্তের বাইরে পরীক্ষার নামে ফি আদায় করা, কিংবা অতিরিক্ত ফি নেওয়া অন্যায়। অভিভাবকরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বোর্ডে দাখিল করলে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।