‘ব্লু হাইড্রোজেন পরিবেশের জন্য অধিক ক্ষতিকর’

বাড়তে থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ক্রমেই বিনিয়োগ ও চাহিদা বাড়ছে ব্লু হাইড্রোজেনের ব্যবহার। তবে, সম্প্রতি নতুন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে, এ ধরনের জ্বালানির ক্ষতির পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এমনকি কয়লা পুড়িয়ে সবুজ পরিবেশের যে পরিমাণ ক্ষতি করা হয়- তার চেয়ে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। শনিবার (১৪ আগস্ট) ওই গবেষণার ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রাশিয়ান গণমাধ্যম আরটি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

গবেষকদের দাবি, ডিজেল পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করলে যে পরিমাণ কার্বন ফুটপ্রিন্ট (গ্রীন হাউসের জন্য দায়ী কার্বন নিঃসরণ) হয় ব্লু হাইড্রোজেনের এই ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি। আর কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ক্ষতি করে থাকে ব্লু হাইড্রোজেন।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোলজি ও পরিবেশ বিষয়ক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট হাওয়ার্থ যিনি ওই গবেষণা দলের একজন তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রতিশ্রুতি দেয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, কানাডা থেকে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশের জনপ্রতিনিধিরা জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের পথে ব্লু হাইড্রোজেনের পক্ষে অধিক অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত। এজন্য তারা ব্লু হাইড্রোজেন উৎপন্ন করতে বাজি ধরে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসছেন।’

হাওয়ার্থ তার বক্তব্যে লিখেছেন, প্রথম পর্যায়ে তাদের গবেষণা ফলাফলে দেখানো হয়েছে ব্লু হাইড্রোজেনের কার্বন নিঃসরণের শক্তিশালী একটি জীবন চক্র। এই ফলাফল সত্যিই উদ্বেগের কারণ; বিশেষ করে ওই সব দেশের সরকার প্রধানদের জন্য যারা পরিবেশের সুরক্ষায় কার্বণমুক্ত জ্বালানি উৎপাদনে জনগণের অর্থ ব্যয় করছেন এই ব্লু হাইড্রোজেনের পেছনে। এমনকি এর কার্বন নিঃসরণ কার্বন সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিশেষ কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কমানো যায় না।

তার দাবি, ‘সত্যি বলতে কি কার্বনের দূষণমুক্ত একটি পৃথিবী গঠনে ব্লু হাইড্রোজন নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন এর ভূমিকা শূন্য। আমরা দেখিয়েছি কিভাবে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদীদের মনে এটি ক্ষোভ সৃষ্টির কারণ হতে পারে। এটি এমন এক জ্বালানি যা দূষণমুক্ত জ্বালানি নির্ভর বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলার পথটাই শুধু দীর্ঘ করবে; আর কিছু না।’

আগামীর বিশুদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিতে হাইড্রোজনকে একটি বিরাট অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবেশের জন্য সবেচেয়ে নিরাপদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে গ্রিন হাইড্রোজেন। সোলার ফার্মে এটি পানিতে বিদ্যুত প্রবাহিত করে উৎপন্ন করা হয়। তবে, এই সবুজ হাইড্রোজেন উৎপন্ন করা বেশ ব্যয় সাপেক্ষ।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও চাহিদা মাথায় রেখে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তুলনামূলক সস্তায় গ্রে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করা হচ্ছে। স্ট্রিম মিথেন রিফরমেটিং প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে এই গ্রে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মিথেন পানিকে উত্তপ্ত করে এবং এভাবে হাইড্রোজেন ও কার্বন মনোঅক্সাইড তৈরি হয়।