ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা করোনায় আটকে আছে ৯৭৮০ বেকারের ভাগ্য

গত বছরের মার্চ থেকে করোনা মহামারীর কারণে ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এর মধ্যে শুধু জনতা ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের কিছু টেকনিক্যাল পদের পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু এই মহামারীর কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) অধীনে ৯ হাজার ৭৮০ পদের নিয়োগ পরীক্ষা আটকে আছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি) করোনার কারণে বড় কোন পরীক্ষার আয়োজন করতে পারিনি। তবে করোনা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকবার ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে শেষ পযর্ন্ত ব্যর্থ হয় বিএসসি। ফলে কয়েক লাখ বেকারের জন্য ৯ হাজার ৭৮০ পদের ব্যাংকের এই নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে বেকারদের হতাশা আরও বাড়ছে।

সম্প্রতি ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সদ্য বিদায়ী সদস্য সচিব আরিফ হোসেন খান বলেছিলেন, দেশে যেহেতু করোনা বাড়ছে তাই এখন নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে নতুন কোন চিন্তা করা হচ্ছে না। আসন্ন ঈদের পর করোনার হার কমলে তখন নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেছিলেন, লকডাউন উঠলে ও করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। দেশের সর্বত্র লকডাউন উঠে গেলে ও করোনার হার কমলে দ্রুতই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহরূপ লাভ করেছে৷ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াল থাবাতে সবাই আজ দিশেহারা। আর চাকুরিপ্রত্যাশী বেকারদের অবস্থা আরও শোচনীয়। এদিকে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনায় মৃত্যৃ সংখ্যা নেমে আসতে হবে শূণ্যের কোটায়, আক্রান্ত রোগীর হার হতে হবে ৫ শতাংশের নিচে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে, শিক্ষার্থীরা ভ্যাক্সিনের আওতায় আসবে। তারপরে অনুমতি সাপেক্ষে ব্যাংক পরীক্ষাগুলো শুরু হবে।

এর আগে গত বছরের ১৯ নভেম্বর সাত ব্যাংকের ৭৭১টি সিনিয়র অফিসার পদের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে, পরে সেই পরীক্ষা করোনার কারণে স্থগিত করে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি)।

জানা যায়, অন্য সব নিয়োগ পরীক্ষার মতো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত রয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালভিত্তিক বড় নিয়োগ পরীক্ষা আটকে আছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক ও অফিসারে পদের পরীক্ষাও হয়নি।

করোনায় যেসব ব্যাংকের পরীক্ষা আটকে আছে:

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের ১৮৮টি ও অফিসার (সাধারণ) পদের ২০০টি এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও ক্যাশ মিলে ২৭৯ পদের পরীক্ষা আটকে আছে।

এদিকে ২০১৮ সাল ভিত্তিক সমন্বিত ৭ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারের ৭৭১টি পদ, সমন্বিত ৯ ব্যাংকের অফিসার পদে ২ হাজার ৪৬টি ও সমন্বিত ৫ ব্যাংকের অফিসারের (ক্যাশ) ১ হাজার ৫১১টি পদের পরীক্ষাও হয়নি।

এছাড়া ২০১৯ সাল ভিত্তিক সমন্বিত ৮ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারের ৮৬৮টি পদ, সমন্বিত ৫ ব্যাংকের অফিসার পদে ১ হাজার ৪৩৯টি ও সমন্বিত ৮ ব্যাংকের অফিসারের (ক্যাশ) ২ হাজার ৪৭৮টি পদের পরীক্ষাও আটকে আছে করোনার কারণে।

এই হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি ব্যাংকের ৯ হাজার ৭৮০ পদের চূড়ান্ত নিয়োগ পরীক্ষা আটকে আছে।