বেসরকারি ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সতর্ক করবে ইউজিসি

নিয়ম নীতি না মানা ও আইনি জটিলতা থাকায় বেসরকারি ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারির চিন্তা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শীঘ্রই এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেসরকারি ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এমন সতর্কতা জারি করেছিলো ইউজিসি।

দুই ধাপে এই সতর্কতা জারি করবে ইউজিসি। প্রথম দফায় তিনটি এবং পরে বাকী ২১টির বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তির খসড়া তৈরি করেছে তারা। আগামী সপ্তাহে প্রথম ধাপের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

দেশে ১০৮টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ইউজিসির ওয়েবসাইট থেকে অনুমোদিত ক্যাম্পাস ও অনুমোদিত প্রোগ্রামে নির্ধারিত আসন সংখ্যার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিতে পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি।

গণবিজ্ঞপ্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, দুই ভাগে বিভক্ত ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কোনো ক্যাম্পাস ও ঠিকানা নেই। বৈধ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নেই। কোনো পদেই আইনানুগভাবে কেউ নিয়োজিত নেই। সব শিক্ষাক্রম মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক, প্রশাসনিক, আর্থিক কার্যক্রমসহ ভর্তি, পরীক্ষা ও এর ফলাফল এবং একাডেমিক সনদের আইনগত বৈধতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে একাধিক মামলা রয়েছে।

নিয়ম না মানার কারণে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এর আগে সরকার বন্ধ করেছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বিষয়ে ইউজিসি বলেছে, অনুমোদনের সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ঠিকানা ছিল বনানীতে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর ঠিকানা বারিধারা-নর্দ্দার প্রগতি সরণিতে অনুমোদন দেয়। কিন্তু ইউজিসি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখতে পায়, এ ঠিকানায় আইন অনুযায়ী জায়গা (স্পেস), শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মতো কোনোরূপ সুযোগ-সুবিধা নেই। ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়নি। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ নেই। প্রতিষ্ঠানটির সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিলসহ একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং ভর্তি-পরীক্ষা ও সনদের আইনগত বৈধতা নেই।

দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা ১৯৯৫ সালে অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু আইন না মানায় ২০০৬ সালে সরকার এটি বন্ধ ঘোষণা করে। এ নিয়ে আদালতে যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ দুই ভাগে বিভক্ত এবং একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান অনুমোদিত ঠিকানা রাজধানীর উত্তরায়। ইউজিসি গত বছর সেখানে সরেজমিনে পরিদর্শনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব পায়নি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সনদ বিক্রির অভিযোগ আছে। এছাড়া, বর্তমান বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে কমিশন। ইউজিসি এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়নি। এটিতে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ নেই।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় কুইন্স ইউনিভার্সিটি বন্ধ রেখেছে সরকার। এদিকে ইউজিসির কালো তালিকায় আরও রয়েছে, টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জেডএইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পুন্ড্রু ইউনিভার্সিটি, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

সাময়িক অনুমোদন পেলেও রূপায়ন এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়, আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মাখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মাইক্রোল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি। এছাড়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের আদেশে বন্ধ রয়েছে।

এসব বিষয়ে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ওমর ফারুখ বলেন, নিয়ম নীতি না মানা ও আইনি সমস্যা থাকায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আগামী সপ্তাহে প্রথম ধাপে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পরে বাকীগুলোরও প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, যদি কেউ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রতারিত হলে, পরে আইনগত সমস্যায় পড়লে বা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হলে অথবা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম বাতিল হলে বা অতিরিক্ত আসনে ভর্তি হওয়ায় সনদ বাতিল হলে তার দায়-দায়িত্ব ইউজিসির উপর আসবে না।