বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে ভাবছে মন্ত্রণালয়

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে কোন পদ্ধতিতে শিক্ষকদের বদলি করা হবে সেটি অমীমাংসিত থাকায় এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শনিবার (১৯ মার্চ) সকালে এসব কথা জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) ফৌজিয়া জাফরীন।

তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকরা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে বদলির সুযোগ পাচ্ছে। তবে এতে করে শিক্ষক সংকট লেগেই থাকছে। বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সেটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

এই অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের উপর। সেখান থেকে কোনো নির্দেশনা আসলে তারপর বদলির ব্যবস্থা চালু হবে। এর আগে সেভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা চায় এনটিআরসিএ। তারা বলছেন, বদলি ব্যবস্থা চালু হলে গণবিজ্ঞপ্তিতে পুরোনো শিক্ষকরা আর আবেদন করবে না। এতে করে শূন্য হওয়া পদগুলো পূরণ হবে। এছাড়া বদলির ব্যবস্থা চালু হলে ইনডেক্সবিহীন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবেন তারা। এক্ষেত্রে নিবন্ধিত শিক্ষকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরা নিজ উপজেলার অথবা জেলার কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএ’র এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা = জানান, ‘আমরাও চাই বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা চালু হোক। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি। অনেক শিক্ষক বদলির বিষয়ে জানতে আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত ফোন করেন। তবে আমরা তাদের কোনো আশারবানী শোনাতে পারি না।

এদিকে দুইভাবে শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা চালু করার কথা জানিয়েছেন এনটিআরসিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরমধ্যে একটি হলো ‘মিউচুয়াল ট্রান্সফার’ বা পারস্পরিক বদলি। এর মাধ্যমে একই বিষয়ে এবং একই পদে কর্মরত সমঅভিজ্ঞ ইন্ডেক্সধারী শিক্ষকগণ মিউচুয়াল ট্রান্সফার নিতে পারবে। অন্যটি হলো স্বেচ্ছায় বদলি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শূন্য আসনে নতুন নিয়োগের পূর্বে সেচ্ছায় বদলির আবেদন চেয়ে এনটিআরসিএ প্রয়োজনমত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। এরপর প্রার্থীরা আবেদন করবে। সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এনামুল কাদের খান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কাজ করছে। তাদের কাছ থেকে নির্দেশনা পেলে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে এনটিআরসিএ।