বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি-প্রোভিসি-ট্রেজারারের শূন্যপদ পূরণে ৪র্থ বারের মতো নির্দেশনা

যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) ও ট্রেজারারের পদ শূন্য রয়েছে; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী এই তিন পদ পূরণের লক্ষ্যে প্যানেল প্রস্তুতপূর্বক প্রতি পদের বিপরীতে তিনজনের নাম প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-১ শাখার উপসচিব শামিমা বেগম স্বাক্ষরিক এক স্মারকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান বরাবর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্মারকে বিষয়টি অতীব জরুরি বলে উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত চারবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। সম্প্রতি ৪র্থ বারের মতো দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যপদ পূরণে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তিনবার তালিকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ৪র্থ বারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আগামী ৭ দিনের মধ্যে (স্মারকের স্বাক্ষরিত তারিখ থেকে) এসব তালিকা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার— এ তিন পদে নিয়োগ দেন আচার্য ও রাষ্ট্রপতি। কিন্তু দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম না মেনে নিজেরাই এসব পদ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বছরের পর বছর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালায়।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের তদারক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১টিতে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার— এ তিন পদের সবাই রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত। বাকি ৯৬টিতে নিজেরাই এসব পদ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন কিংবা শূন্যপদ রয়েছে।

জানা গেছে, গত আগস্টের ৯ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষের শূন্যপদ পূরণের ব্যবস্থা নেয়া সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারের শূন্যপদ রয়েছে। শিগগির এই সব শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আগস্টের ২৩ তারিখে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের পদ শূন্য রয়েছে তাতে নিয়োগের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের চিঠি পাঠায়। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বারের মতো এবং চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তৃতীয় বারের মতো চিঠি পাঠানো হয়। এরপরও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা পাঠায়নি।