বিসিবির ‘আচরণে অসন্তুষ্ট’ সুজন

টাইগারদের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এছাড়া সম্প্রতি নতুন স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে। এবং ব্যাটিং কোচ হিসেবে নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অ্যাশওয়েল প্রিন্সকে।

এ বিষয়গুলো নিয়ে মনের ক্ষোভ বেরিয়ে এলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অপারেশন্সের ভাইস চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজনের কথায়!
সোমবার (২৮ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়গুলো নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।
সুজন বলেন, প্রত্যেকটা কোচেরই ভিন্ন ভিন্ন দর্শন থাকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা খুবই ভালো ছিল। তার সঙ্গে আমি যতদিন কাজ করেছি, প্রথম সিরিজটা ছাড়া তার সঙ্গে আমার দারুণ ফাইট হয়েছে। এতে করে তার সঙ্গে কাজ করতে খুবই সুবিধা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ডোমিঙ্গো হয়তো বা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি।
বিসিবি অপারেশন্সের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এটা ডমিঙ্গোর দল, তার কল, সে কী করবে না করবে এটা তার ব্যাপার। আমার পরামর্শ দেওয়ার থাকলে আমি দিয়ে থাকি। নেওয়ার ইচ্ছাটা তার। কিন্তু চান্দিকার সঙ্গে এ বিষয়গুলো নিয়ে খুব আলোচনা হত। একটা সিরিজ শুরু হওয়ার আগে তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হত। তবে ডোমিঙ্গোর সঙ্গে এটা এখনো হয়নি। আসলে একটা জুটি হতেও সময় লাগে।
প্রিন্স-হেরাথ তিনি বলেন, আমি তো অপারেশন্সের ভাইস চেয়ারম্যান কিন্তু সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি যে এই দুইটা লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে কেউ শেয়ারও করেনি। আমি হয়ত বায়ো বাবলে ছিলাম বলেই এমনটা হতে পারে। কিন্তু বায়ো বাবলে তো ফোন ছিল। মোট কথা আমাকে জানানো হয়নি।
সুজন বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকে আমি জানতে পেরেছি অ্যাশওয়েল প্রিন্স ও হেরাথকে নেওয়া হয়েছে। হেরাথের কথাটা আমিই প্রথম বলেছিলাম বিসিবিকে। কারণ হেরাথের অভিজ্ঞতা ভালো আছে। হেরাথ মাত্রই খেলেছে। তাই তার অভিজ্ঞাত, কোচিং সবই করা আছে। যাইহোক আমি একেবারেই জানতাম না যে এই দুইজনকে নেওয়া হয়েছে। অ্যাশওয়েল প্রিন্সকে আসন্ন সিরিজটার জন্যই নেওয়া হয়েছে। এবং হেরাথকে সম্ভবত একটু দীর্ঘ সময়ের জন্যই নেওয়া হয়েছে, বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যাশওয়েল প্রিন্স কোচিং করাচ্ছে আর হেরাথের অভিজ্ঞতা আছে। তাই তাদেরকে নেওয়াটা কোনো সমস্যা না।
স্থানীয় কোচের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের এখনো সেরকম মাইন্ড সেটআপ হয়নি যে আমাদের স্থানীয় কোচকে জাতীয় পর্যায়ের কোনো অবস্থানে নিতে পারবো। কিন্তু আমরা নিতে না পারলেও বোলিং কোচের সহকারী করতে পারি। কারণ দিলে তো আমাদেরই একটা ছেলে শিখল। যদি সিনিয়র কোনো কোচের সহকারী কোচ হিসেবে কোনো তরুণ যায়, যদি ৩টা সিরিজ থাকে, তবে সে তো অনেক কিছু শিখে যাবে। সেই অভিজ্ঞাতা আবার সে আমাদের অন্য স্থানীয় কোচের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে। অনুর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯- সবার জন্যই কাজে লাগবে। আমরা কেন এভাবে চিন্তা করতে পারি না?
ক্ষোব প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসলে ভাইস চেয়ারম্যান আছি কিনা অপারেশনালি সেটাও এখনো নিশ্চিত না। মানে নামে আছি। কিন্তু আমাকে কোনো মিটিংয়ে যোগদান করানো হয় না, বা কোনো সময় ডাকাও হয় না। মাঝে দুই বছর তো কোনো ইমেইলও পাইনি। এখন তবুও মাঝে মাঝে কিছু পাই। তখন এই মাধ্যমে জানলাম যে বাংলাদেশ দলের স্কোয়ার্ড বা কি যাচ্ছে না যাচ্ছে এটাই। আগে অনেক যুক্ত থাকতাম। এখন অপারেশনে তেমন একটা যুক্ত না। কাউকে সাহায্য করার দরকার হলে সাহায্য করি। বোর্ডে আমার নিজস্ব দায়িত্ব আছে। আমার দায়িত্ব নিয়ে আমি খুব সচেতন। ডেভেলপমেন্টের একটা ক্যাম্প চলছে বিকেএসপিতে। আমি সেখানে খুব ব্যস্ত ছিলাম। আবার নতুন একটা দায়িত্ব দিয়েছেন পাপন ভাই বাংলাদেশ টাইগারস সম্বন্ধে।
সুজন বলেন, ছায়া দলটা তো বাংলাদেশের একটা পরবর্তী দল। এই দলের কি বছর ভিত্তিক কোনো টুর বা প্রোগ্রাম আছে আমাদের? হয় কিছু? কিছুই হয় না। একটা টুর আসে যে আমরা আয়ারল্যান্ড খেলতে যাবো। ১৫ দিনের কল করা হয়, খেলোয়ার ডাকা হয়, ওখানে খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়ারল্যান্ড চলে যাই। কিংবা হোম সিরিজেও একই অবস্থা। তো এটা তো কোনো প্রশিক্ষণ না!
বিসিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আকরাম ভাই বোর্ডে সবসময় যে আসেন তা না। আমি তো মাঠের লোক মাঠে থাকি, বোর্ডে যাই, দেখা হয়, কথা হয়। আকরাম ভাই ব্যস্তও থাকেন। তারপরেও তিনি সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারপরেও হয়তো খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সময়টা দিতে পারেন না। তাই হয়ত আকরাম ভাইয়ের সঙ্গে নৈকট্যটা ওভাবে গড়ে উঠেনি, যতটা আমার সঙ্গে আছে। আমার সঙ্গে তারা যতটা খোলাখুলি কথা বলতে পারে, আকরাম ভাইকে তো তারা ওই সময়টাতে পায় না। তারপরেও আমার মনে হয়, আকরাম ভাই এখন যথেষ্ট পরিমাণ সময় দেয়। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর আকরাম ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখাও হয়ানি।