বিসিএসের খাতা দেখেও অনেক উত্তরের নম্বর দেননি পরীক্ষক

৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৯ মাস আগে শেষ হলেও ফলাফল পাননি চাকরিপ্রার্থীরা। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, তিন শতাধিক পরীক্ষকের অবহেলায় ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে। ৩১৮ জন পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গুরুতর অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি সম্প্রতি প্রতিবেদনে দিয়েছে। কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘একজন পরীক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে রেখেছি। তাঁদের উপযুক্ত সম্মানীও দেওয়া হচ্ছে। অথচ অবহেলার সঙ্গে খাতা দেখেছেন, যা দেখে অবাক হয়েছি। ফল দিতে দেরি হওয়ার অন্যতমকারণ পরীক্ষকদের গুরুতর অবহেলা।’

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছয় মাসে ১০০টিরর মধ্যে মাত্র ১৫টি খাতা দেখেছিলেন। কয়েক দফা সময় নিয়ে খাতা জমা দিয়েছেন। তাতেও অনেক ত্রুটি রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ খাতা যাচাই করে কমিটি দেখেছে, ৩১৮ জন দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীর কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরের জন্য নম্বরই দেননি কেউ কেউ। অনেকে খাতার শেষের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। কোনো কোনো খাতায় নম্বরের যোগফলে ভুল করেছেন। অনেকে এমনভাবে নম্বর দিয়েছেন, যা পুনর্মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে।

এখন একে একে ৩১৮ জন পরীক্ষককে ডেকে সংশোধনী করা হচ্ছে। এসব পরীক্ষকের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে পিএসসি। তাঁদের খাতা দেখতে দেওয়া হবে না। অনেককে সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁরা একই ভুল করেলে বাদ পড়বেন। যারা দেখে সময়মতো জমা দিচ্ছেন, তাঁদের বেশি খাতা দেওয়া যায় কি না, সেটি ভেবে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন বলেন, যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। কারও নাম উল্লেখ করছি না। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পরীক্ষকদের অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের ধৈর্য ধরতে বলছি।