বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের উহানের ল্যাবে যেতে দেবে না চীন

করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে বিশেষজ্ঞদের উহানের ল্যাবরেটরিগুলো ঘুরে দেখার অনুমতি দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আহ্বান নাকচ করেছে চীন। এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তারা বলেছে, তাদের গবেষণাগারগুলো যে নিয়মনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তার সঙ্গে এটা যায় না।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান শহরেই প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেড় বছর ধরে চলা এই মহামারিতে বিশ্বে ৪১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আর আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ কোটি ১১ লাখের বেশি মানুষ।

চীনের পরীক্ষাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে গত বছরই সন্দেহের কথা বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাস কীভাবে মানুষের শরীরে এল, তা খুঁজতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীনে যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল। তাদেরকে উহানের গবেষণাগারগুলো ঘুরে দেখতে দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি চীনে দ্বিতীয় দফায় বিশেষজ্ঞদের পাঠানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গ্যাব্রেয়াসুস। তিনি যে প্রস্তাব দেন, তাতে করোনাভাইরাস প্রথম যে এলাকায় দেখা যায়, সে এলাকার ল্যাবরেটরি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের কথা বলা হয়। বেইজিংয়ের প্রতি স্বচ্ছ, তথ্য উন্মুক্ত ও সহযোগিতার আহ্বান জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। প্রথম দফায় অনুসন্ধানকারীদের কাছে রোগীদের প্রারম্ভিক তথ্য দেওয়া হয়নি, এবার যেন সেগুলো দেওয়া হয়, সেই আহ্বান জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার চীনের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী জেং ইশিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই প্রস্তাব ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন এবং বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রাসী মনোভাবের’। প্রস্তাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, চীন এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে না।

চীনা উপমন্ত্রী বলেন, তিনি ডব্লিউএইচওর প্রস্তাব শুনে বিস্মিত হয়েছিলেন। কারণ, সেখানে চীনের ল্যাবরেটরিতে গবেষণার সময় নিরাপত্তাজনিত গাফিলতিতে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে—এমন অনুমানের কথা উল্লেখ করা ছিল।

‘আমরা আশা করি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনা বিশেষজ্ঞদের বিবেচনার বিষয় ও বক্তব্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে এবং কোভিড–১৯ ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানকে একটি বৈজ্ঞানিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করবে। তারা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে উঠবে।

গত জানুয়ারিতে উহানে চার সপ্তাহ অবস্থান করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্তকারীরা। পরে মার্চে প্রকাশিত তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাসটি সম্ভবত বাদুড় থেকে অন্য পশুপাখির মাধ্যমে মানুষের শরীরে এসেছে। উহানের ল্যাবরেটরি থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর যে সন্দেহ করা হয়, তাকে প্রায় ‘অসম্ভব’ বলেছিলেন তাঁরা। তাঁদের ওই মন্তব্য মানতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা।